সরস্বতী পুজোর আবহে শিশু-কিশোর দর্শকদের জন্য আবারও বড়পর্দায় ফিরেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাগ্দেবীর আরাধনার ঠিক আগের দিন মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত নতুন কাকাবাবু ছবি ‘বিজয়নগরের হীরে’। চার বছর পর কাকাবাবু ও সন্তুর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস রয়েছে দর্শক মহলে। ছবিটি দিয়ে দীর্ঘদিনের সহযোগী সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাটন তুলে নিলেন পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়।
ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন পুরো টিম ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা। সবার মুখে সন্তুষ্টির হাসি দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেন প্রসেনজিৎ। তাঁর কথায়, দর্শকের প্রতিক্রিয়া ভালো পাওয়া যাচ্ছে এবং টিকিট বিক্রিও আশাব্যঞ্জক। কাকাবাবু চরিত্রে ফেরার আনন্দ যে তাঁর কাছে এখনও অটুট, তা কথাতেই স্পষ্ট।
তবে কাকাবাবুর সাফল্যের পাশাপাশি টলিপাড়ায় এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা আসন্ন পুজোর ছবি নিয়ে। সম্প্রতি দেব ঘোষণা করেছেন, এ বছরের পুজোর ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেই ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন দেব। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি শারদীয়ায় দেবের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন প্রসেনজিৎ?
এই প্রসঙ্গে বরাবরের মতোই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর কথায়, কোনো ছবিতে কাজ করতে গেলে আগে চিত্রনাট্য হাতে থাকতে হবে, ছবির নাম ও পরিচালক নিশ্চিত হতে হবে। এই তিনটি বিষয় তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ঠিক না হলে তিনি কাজ করতে আগ্রহী নন। এমনকি এক বছর কাজ না করলেও তাঁর তাতে কোনো আপত্তি নেই বলেই জানালেন প্রসেনজিৎ। পুজোর ছবি প্রসঙ্গে তাঁর সাফ বক্তব্য, ছবি তৈরি হয়ে পুজোয় মুক্তির উপযুক্ত হলে তবেই তিনি যুক্ত হবেন, নচেৎ নয়।
কথা প্রসঙ্গে তিনি আবার ফিরে যান কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। নতুন পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়ের কাজের প্রশংসা করে প্রসেনজিৎ বলেন, তাঁর কাজে বরাবরই চিন্তাশীলতার ছাপ থাকে। করোনাকালে এক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই তিনি চন্দ্রাশিসের পরিচালনার ভক্ত। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ তেরো বছরের কাকাবাবু যাত্রার কথাও স্মরণ করেন অভিনেতা। তাঁর মতে, সৃজিত কিংবা চন্দ্রাশিস দু’জনেই ভালো ছবি দিতে পেরেছেন মূলত শক্ত গল্পের ভিত্তিতে। এই কৃতিত্ব তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কেই দিয়েছেন।
ভবিষ্যতে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব পুরোপুরি কি চন্দ্রাশিস রায়ের হাতেই থাকবে, সেই প্রশ্নে আপাতত কিছু বলতে নারাজ প্রসেনজিৎ। তাঁর মতে, এখনই এমন সিদ্ধান্তের সময় আসেনি। সামনে কী হয়, সেটাই দেখার।
সব মিলিয়ে, সরস্বতী পুজোয় কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তনের আনন্দের মধ্যেই পুজোর ছবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
পিআর/টিএ