ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পঞ্চগড়-১ আসনের দুই প্রার্থীকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শোকজপ্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় সারজিস আলম তার জোট প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন। অথচ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজ দলীয় প্রধানের ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। নিজ দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে তিনটি তোরণ নির্মাণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই প্রচারণা চালানোর অভিযোগও আনা হয়।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে পঞ্চগড় পৌর এলাকায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে তার বা তার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে একাধিক আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়ে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ১০ দলীয় জোটের নির্মিত তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি অপসারণ করা হলেও করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে বিধি লঙ্ঘন করে স্থাপিত ফেস্টুন অপসারণে তার কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অনুমোদিত ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি আকারের পরিবর্তে প্রায় ৬ ফুট × ৩ ফুট আকারের ফেস্টুন ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি দাখিল না করে প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকির অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএ/টিকে