ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলা চালাতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কার মাঝেই সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন একটি ‘‘নৌবহর’’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দেশটির রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনার একটি আমিরাতের এই ঘাঁটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানে কোনও হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম উপায় বলে জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ইরানে সাম্প্রতি বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন ওই বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনও বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।

সূত্র: এএফপি।

আইকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
দিল্লিতে অফিস খুলে হাসিনা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন: আলতাফ হোসেন চৌধুরী Jan 26, 2026
জামিন পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম Jan 26, 2026
বর্ষাসহ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ালেন অনন্ত Jan 26, 2026
img
‘স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আলাদা হয়েছি, পরিবার হিসেবে নয়’ Jan 26, 2026
শোবিজে আলোচনায় অপু ও বুবলী Jan 26, 2026
img
পুলিশ স্টাফ কলেজে দক্ষ অফিসারদের পদায়নের নির্দেশ Jan 26, 2026
img
মাছের ঘেরে লাফ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আওয়ামী লীগ নেতার Jan 26, 2026
img
এবার বলিউডে জেনিফার! Jan 26, 2026
img
শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলতো: মির্জা ফখরুল Jan 26, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন গম কিনবে বাংলাদেশ Jan 26, 2026
img
দেশের বাইরেও হবে বিডার অফিস: বিডা চেয়ারম্যান Jan 26, 2026
img
নীলফামারীতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদান Jan 26, 2026
img
র‌্যাবের ফেসবুক পেজ বন্ধ Jan 26, 2026
img
অভিজ্ঞতা ছাড়া তো চাকরিও হয় না, দেশ চালানোর দায়িত্ব দেব কিভাবে: আবুল কালাম Jan 26, 2026
img
বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি Jan 26, 2026
img
বরিশালে বিশেষ অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসহ স্বামী-স্ত্রী আটক Jan 26, 2026
img
আবারও ঘোড়ার বেগে ছুটছে স্বর্ণের দাম Jan 26, 2026
img
ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প Jan 26, 2026
img
একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান Jan 26, 2026
img
কারাগারে পৌঁছায়নি সাদ্দামের জামিননামা, মুক্তি মিলছে না আজ Jan 26, 2026