ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (চৌগাছা ও ঝিকরগাছা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং অভয়নগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক গোলাম রসুল ওই নোটিস জারি করেন।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সরেজমিনে তদন্তকালে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ালে সাঁটানো অবস্থায় রঙিন ফেসটুন, ব্যানার ও পোস্টার পাওয়া গেছে। যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি ৭(গ) (৩)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার ব্যবহার বা দেওয়ালে লিফলেট-পোস্টার সাঁটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে সাবিরা সুলতানাকে আগামী ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত অভয়নগর সিভিল জজ আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সাধারণ নারী ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার সময় সাবিরা সুলতানার কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনপূর্বক নারী ভোট কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে।
হামলাকারীরা নারীকর্মীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা, লাঞ্ছিত এবং হাতে থাকা মোবাইলফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে বলেও জামায়াতের অভিযোগ। এছাড়াও নারীকর্মীদের সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করা হয়, যেখানে নগদ অর্থ, কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল বলে দলটির দাবি। লিখিত অভিযোগে বর্ণিত উক্ত ঘটনাসমূহ ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বিধায় এরও উপযুক্ত ব্যাখ্যা করতে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিকে একইদিন বিকেল ৩টায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
ইউটি/টিএ