হ্যারি ব্রুকের ১৩৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ও জো রুটের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে রানের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ৪৬.৪ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় তারা। তাতে ৫৩ রানের জয়ে ২০২৩ সালের পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিলো ইংলিশরা। তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ২-১ ব্যবধানে।
কলম্বোতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তৃতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩০৪ রানে থামে স্বাগতিকরা।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল ভিত্তি ছিল জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের ১৯১ রানের জুটি। মাত্র ১১৩ বলেই আসে এই জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্রুক ৬৬ বলে ১৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কা। শেষ ৪০ বলে তিনি একাই করেন ১০১ রান। শেষ পাঁচ ওভারে শ্রীলঙ্কান বোলারদের কাছ থেকে ইংল্যান্ড তোলে ৮৮ রান।
এর আগে জ্যাকব বেথেলের ৬৫ রানের ইনিংসে রুটের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটি গড়ে ওঠে। রুট খেলেন ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস, যেখানে ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের নিখুঁত মিশেল দেখা গেছে। ১০৮ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কা।
বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ বোলারদের দিনটি ছিল হতাশাজনক। আসিথা ফার্নান্দো ১০ ওভারে রান দেন ৮৫, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও জেফ্রি ভ্যান্ডারসে দুজনই ১০ ওভারে দেন ৭৬ রান করে। তুলনামূলক ভালো বোলিং করেন দুনিথ ভেলালাগে, তবে শেষ দিকে তার ওভারেও আসে বড় রান।
৩৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল শ্রীলঙ্কা। পাঠুম নিশাঙ্কা ২৫ বলে ৫০ রান করে দ্রুত চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। তবে শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানোয় ছন্দ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। মাঝখানে পাভান রথনায়েকের ১২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল। ১১৫ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ১টি ছক্কা। তবে প্রয়োজনীয় রানরেট ধরে রাখার চাপ আর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় জুটির অভাবে লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৯ রানের ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। আর তৃতীয় ম্যাচটি জিতে তারা ভাঙল ডেডলক। ২০২৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে হারের পর এই প্রথমবার নিজেদের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারলো শ্রীলঙ্কা।
এসএস/টিএ