টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায় ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত। ২০০৭ সালে কলেজের সহপাঠী নন্দিনীকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের একমাত্র কন্যা ময়ূরাক্ষীকে নিয়েই আবির ও নন্দিনীর সংসার। স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে সুখী দাম্পত্য কাটালেও মেয়েকে সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে সামনে আনতে দেখা যায় না অভিনেতাকে। নন্দিনীও খুব কম ক্ষেত্রেই কন্যার ছবি প্রকাশ্যে আনেন।
তবে বসন্ত পঞ্চমীর বিশেষ দিনে সেই অভ্যাসে ব্যতিক্রম ঘটালেন এই দম্পতি। সরস্বতী পুজো উপলক্ষে নন্দিনী সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন কিছু মিষ্টি মুহূর্ত। ছবিতে দেখা যায়, হলুদ-লাল পাড়ের সাবেকি শাড়িতে সেজে উঠেছে ছোট্ট ময়ূরাক্ষী। কপালে বড় লাল টিপ, কানে ও গলায় সোনার গয়না, মাথায় ছোট্ট টিকলি—সব মিলিয়ে যেন ছোট্ট প্রতিমার মতোই লাগছিল তাকে। প্রতিটি ছবিতে ময়ূরাক্ষীর প্রাণখোলা হাসি ধরা পড়েছে, যা পুজোর আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
একটি ছবিতে আবির ও নন্দিনীকে দেখা যায় মেয়েকে আগলে ধরে হাসিমুখে পোজ দিতে। আবির পরেছিলেন ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি, আর নন্দিনী মেয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেন বাসন্তী রঙের শাড়ি। ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের মন জয় করে নেয় ময়ূরাক্ষীর সরলতা ও স্বাভাবিক হাসি।
জানা যায়, ২০১৫ সালের আশেপাশে প্রথমবার বাবা হন আবির। বর্তমানে ময়ূরাক্ষীর বয়স এগারোর কাছাকাছি। গত বছর একটি পডকাস্টে মেয়েকে নিয়ে আবেগঘন কথা বলতে শোনা যায় অভিনেতাকে। আবির জানান, তাঁর মেয়ে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। বাবার হিসেবে কিছু দুশ্চিন্তা তাঁর মনে সবসময় কাজ করে। জনসমাগমে মেয়েকে নিয়ে গেলে তিনি সতর্ক থাকেন, কারণ সামান্য অসুবিধেও তাঁর কাছে বড় যন্ত্রণা।
তবে একইসঙ্গে আবির স্বীকার করেন, মেয়ের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন নিঃশর্ত ভালোবাসার মানে। তাঁর কথায়, ময়ূরাক্ষীর একটি অনন্য ক্ষমতা রয়েছে সে খুব সহজেই আশপাশের মানুষের ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারে। মেয়ের প্রতি এই স্নেহমাখা ও ইতিবাচক মনোভাবই অভিনেতাকে নেটপাড়ায় আরও আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।
এমকে/টিএ