দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আদালতের রায়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চশমা প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ী হন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। তবে পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ফলাফল পরিবর্তন করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সামছুল আলমকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৪ মে (বুধবার) দুপুরে নোয়াখালী জেলা দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ দেওয়ান মনিরুজ্জামান রায়ে মাওলানা সাইয়েদ আহমদকে ৪৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ আপিল করলেও চূড়ান্তভাবে রায় বহাল থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা রহিমুল্লাহ বলেছেন, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সেদিন আমাদের বিজয় কেড়ে নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আমরা মহা আনন্দিত। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের ভাষা আমাদের নেই। ন্যায় ও ইনসাফের চেয়ারম্যান হবেন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ।
মাওলানা সাইয়েদ আহমদের ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ফরহাদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি ঠেকাতে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে পেশিশক্তির মাধ্যমে আমার বাবাকে মাত্র ১১ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত আমার বাবাকে বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। অবশেষে আজ তিনি শপথ গ্রহণ করলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সব আইনজীবী এবং আমাদের ইউনিয়নের সচেতন বাসিন্দাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ধিক্কার জানাই তাদের, যারা সেই নির্বাচনে কারচুপি করে সত্যকে চাপা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়েদ আহমদ দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ সত্যের জয় হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে শপথ নিতে পেরেছি। যেখানে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল ছয় মাসে, সেখানে সময় লেগেছে চার বছর। এতে আমার এলাকাবাসী ও ভোটাররা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং আমার ইউনিয়নের সব বাসিন্দা ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করবো।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ফেরদৌসী বেগম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/টিএ