ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ও আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিরপুর কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সভা হয়।
সভায় নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মির আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।
ইশতেহার উপস্থাপনকালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মির আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি বলি, আমাকে খুঁজতে হবে না, আমিই নাগরিকের মুখোমুখি হবো। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছয় মাস পরপর ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।
একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া এলাকায় সেতু নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়ন, মিরপুর বাংলা কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, নিরাপদ নারী সমাজ গড়তে তাদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশ গঠন এবং নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।
এছাড়া নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে ‘পাহারাদার অ্যাপ’ চালু, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং তা না হলে আন্দোলনের কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর গড়াই তার প্রধান লক্ষ্য। পানি, গ্যাসসহ সব নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ব্যবস্থা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং ঘরে ঘরে কাজের সুযোগ তৈরির কথা জানান বিএনপির এই প্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হটলাইন চালু করা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কোনো অন্যায়ের সঙ্গে বিএনপি আপস করবে না। নির্বাচনী নীতিমালা প্রতিপালনের ক্ষেত্রেও বিএনপি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি তার ইশতেহারে নারী নেতৃত্বে বিএনপির ভূমিকা, রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৪ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমআই/এসএন