ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি দল গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ভারতের দালালদের পক্ষে দাঁড়ানোর শামিল। ‘না’ মানে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবার জাতীয় নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই বলেন, ‘আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান, তাহলে স্পষ্ট করে বলুন, আমরা যেভাবে হাসিনাকে বিদায় করেছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ মানে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেয়া। কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের টাকায় যে রাষ্ট্র চলে, তাদের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করাই হ্যাঁ এর মূল লক্ষ্য।’
সাদিক বলেন, ‘হ্যাঁ মানে হলো ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতির জন্য দায়ী হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।’
গণভোট প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ‘দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ এরইমধ্যে হ্যাঁ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম সিলই পড়বে হ্যাঁ এর পক্ষে।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।’
তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে এবং দ্রুত হ্যাঁ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করতে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যেন কোনো চাঁদাবাজ বা জালিমের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা না যায়, সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেয়া জরুরি।’
গণজমায়েতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পিএ/টিএ