বাবা তাঁর গুরু, আবার জীবনের দিশারিও। কথার ফাঁকে ফাঁকেই ফিরে আসে পণ্ডিত রবিশঙ্করের প্রসঙ্গ। ভারত সফরের মুখে দাঁড়িয়ে কলকাতার কথা বলতে গিয়েই আবেগে ভিজে ওঠেন সেতারশিল্পী অনুশকা শঙ্কর। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট, এই শহরের সঙ্গে তাঁর টান আলাদা। কলকাতা যেন বহু দিন ধরেই তাঁকে ডাকছে।
লন্ডনে দুই সন্তানকে নিয়ে একা সংসার সামলান অনুশকা। খুব বেশি সময় দেশছাড়া হয়ে থাকা তাঁর পক্ষে সহজ নয়। তবু ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নিতেই প্রথম শর্ত ছিল কলকাতায় আসা। আগের বার শহরে আসা হয়নি, সেই আক্ষেপও রয়ে গিয়েছিল। বাবা পণ্ডিত রবিশঙ্করের শহর, তাঁর পরিবার, সঙ্গীতজগতের পরিজন সব মিলিয়ে কলকাতা এলে মন ভরে যায় শিল্পীর।
১৯৯৫ সালে ভারতেই প্রথম একক মঞ্চে সেতার হাতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন অনুশকা। বাবার ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে সেই অনুষ্ঠান ছিল তাঁর জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। তিন দশক পর আবার ভারত সফর, এবার নিজের সঙ্গীতজীবনের ত্রিশ বছর পূর্তির উপলক্ষে। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর ভারত পরিক্রমা। প্রথম অনুষ্ঠান হায়দরাবাদে। বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুণে ও দিল্লি হয়ে সফরের শেষ গন্তব্য কলকাতা। আট ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তাঁর বিশেষ অনুষ্ঠান।
নিজেকে কোনও এক পরিচয়ে বাঁধতে চান না অনুশকা। তাঁর মধ্যে যেমন আছে কলকাতা, চেন্নাই আর দিল্লি, তেমনই আছে লন্ডন ও ক্যালিফোর্নিয়ার জীবনবোধ। সঙ্গীতেও সেই বহুমাত্রিক পরিচয়ের ছাপ। ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্গে তাঁর সেতারে মিশে যায় জ্যাজ, পাশ্চাত্য পপ কিংবা ফ্ল্যামেঙ্কোর রেশ। তেরো বার গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়া শিল্পীর বিশ্বাস, সেতারের সম্ভাবনা সীমাহীন, শুধু তাকে নতুন চোখে দেখার দরকার।
বাবার প্রভাব তাঁর জীবনে আলাদা করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। গুরু হিসেবে এক রকম, অভিভাবক হিসেবে আর এক রকম ভাবে পাশে ছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। সেই শিক্ষা শুধু সঙ্গীতে নয়, জীবনভাবনাতেও গভীর ছাপ ফেলেছে। সমাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও সেখান থেকেই পাওয়া।
কলকাতায় এসে শুধু মঞ্চে উঠে চলে যেতে চান না অনুশকা। অনুষ্ঠান শেষে আরও একটি দিন শহরে থেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তারপর ফিরে যাবেন নিজের সংসারে। তবু সুরের টানে, স্মৃতির টানে কলকাতা তাঁর কাছে বারবার ফিরে আসার ঠিকানা হয়েই থাকে।
পিআর/এসএন