গোপালগঞ্জের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অতিসম্প্রতি জেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটায় জনমনে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিজিবি টিম গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর, জেলা জজের বাসভবনে এবং গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে রাতের বেলা ককটেল নিক্ষেপের পর শহরে আতঙ্ক বিরাজ করায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসন একটি সূত্র জানায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গোপালগঞ্জসহ চার জেলায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভোটের আগে ও ভোটের দিন নাশকতা, সহিংসতা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় এসব এলাকাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং পরে গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিজিবির টু-আইসি মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ জানান, গোপালগঞ্জ সদর কাশিয়ানী কোটালীপাড়া টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলায় তারা পৃথক পৃথক ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। এসব ক্যাম্প থেকেই ইতিমধ্যে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ সব উপজেলা ও গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত টহল অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান বলেন, সার্বিক বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে ভীতি না থাকে, সে কারণে একটু আগে থেকেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এসএস/এসএন