ঢাকা-৮ আসনের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মেঘনা আলম ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাময়িক বিরতি নিচ্ছেন।
সরকার বারবার ঘোষণা দিয়েছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এমপি প্রার্থীদের গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ঘোষণা কি সরকারের প্রকৃত প্রতিশ্রুতি, নাকি কেবল কথার ফুলঝুরি? কারণ ঢাকা–৮ এর একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও মেঘনা আলম এখনো কোনো ধরনের সরকারি নিরাপত্তা পাননি।
তার নির্বাচনী প্রচারণায় পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তার নারী কর্মীদের গায়ে লেজার লাইট ফেলে অপমান করা হচ্ছে এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অথচ গানম্যান বরাদ্দের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় চাপাচ্ছে ডিএমপির ওপর, ডিএমপি বলছে নির্বাচন কমিশনের কথা, আবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানাচ্ছেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিষয়টি দেখবে। সব দপ্তরে লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এদিকে বিএনপির ছাত্রদলের নেতারা প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বশীল নেতাদের সরাসরি ট্যাগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একইসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এআইনির্ভর অশ্লীল ও মানহানিকর ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
এই ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস, নারীবিদ্বেষী আচরণ ও আইনবহির্ভূত সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেঘনা আলম।
তিনি বলেন, চাইলে তিনি ‘মিস বাংলাদেশ’ হিসেবে সৌন্দর্য জগতেই থেকে আরও খ্যাতি ও আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে পারতেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবনযাপন করাও তার জন্য কঠিন ছিল না। কিন্তু একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সার্টিফায়েড রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি এই রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের দায়িত্ববোধ থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
তিনি হতে চান অবহেলিত নারী ও পুরুষের কণ্ঠস্বর, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি।
নারীদের অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে তিনি গড়ে তুলছেন সাইবার নিরাপত্তা সেল ও আইনি সহায়তা সেল। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে শত শত মিথ্যা মামলায় জর্জরিত নিরীহ মানুষকে মুক্ত করার জন্য তিনি লড়াই করবেন এবং হাদি হত্যা, ফেলানী হত্যাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার শিকার সব মানুষের বিচারের দাবি সংসদে তুলে ধরবেন।
তবে তার নিরাপদ ও নারীবান্ধব ঢাকা–৮ আসন গঠনের স্বপ্নকে অঙ্কুরেই দমিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কোনো গানম্যান বরাদ্দ না দিয়ে তাঁকে কার্যত একটি হিংস্র পরিবেশের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ শুধু একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়-এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরুদ্ধেই একটি ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বভৌমত্বকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
এমকে/টিকে