জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ভাগ্যবদলের অঙ্গীকার করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আবু সাঈদ ও শহীদদের স্বপ্নের ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই ত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত হবে।”
রংপুরকে একটি অমিত সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকে এই অঞ্চলকে গরিব বললেও সঠিক নেতৃত্ব পেলে এটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করলে, ১৩ তারিখেই এ অঞ্চলের নিবন্ধিত এনজিও থেকে নেয়া কৃষকদের ক্ষুদ্রঋণ সরকারিভাবে মওকুফ করে দেয়া হবে।’
এ ছাড়াও কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, বিনা মূল্যে বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ এবং প্রত্যেক কৃষকের হাতে ‘কৃষি কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের কৃষি ও পানির সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি আমাদের অগ্রাধিকার। এ ছাড়া রংপুরে কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক শিল্পায়ন করা হবে এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেয়া হবে যাতে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’ তিনি পীরগঞ্জসহ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি গৃহিণী পরিবারে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে পারবেন এবং সরাসরি সুফল পাবেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ। আগামী ১২ তারিখ ফজরের নামাজ পড়েই আপনাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, যাতে কেউ ভোট কেড়ে নিতে না পারে।’
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিএনপি এরইমধ্যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। একটি দল বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, অথচ তারাই একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকে মন্ত্রিত্ব ভোগ করেছে। ভালো মানুষের সঙ্গেই ভালোরা থাকে। তাদের সেই সময়ের অবস্থানই প্রমাণ করে বিএনপি সঠিক পথে ছিল। এখন তারা যা বলছে তা অনেকটা ‘মাথা খারাপ’ হওয়ার মতো আবোলতাবল প্রলাপ।”
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার জনতা ‘ধানের শীষ’ স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে তোলেন। তারেক রহমান সবাইকে গণতান্ত্রিক যাত্রায় অংশ নিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করার আহ্বান জানান।
আরআই/টিকে