খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। মাত্র ১০-১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও প্রায় ৩০ বছর তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন অনেকেই আপস করেছেন কিংবা চাপ নিতে না পেরে সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একমুহূর্তের জন্যও আপস করেননি।

এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।’

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বেগম খালেদা জিয়ার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এস এম ফজলুল হক, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইন্ডিয়ান সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন।

বিশ্বনেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে এ সময় আমীর খসরু বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আমরা তার জীবদ্দশায় সেই ত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তার মৃত্যুর পর বুঝতে পেরেছি—তিনি কতটা গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে জায়গা করে নিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তার সারা জীবনের ত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, সেই মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। এই মশাল অত্যন্ত মূল্যবান, যা আমাদের সবাইকে বহন করতে হবে।’


আগামীর রাজনীতির পথ সহজ হবে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই শেষ হয়নি।

আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরো কঠিন হতে পারে। আমরা ভাবতে পারি—নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু জীবন সহজ হবে না, মোটেও সহজ হবে না।

গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময় আরো কঠিন হতে পারে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।’

ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, মহানগর পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া, জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকারসহ বিএনপি ও সমমনা অন্যান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

পিএ/টিকে 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নামলেন কোকোর স্ত্রী Jan 31, 2026
img

বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্যমেলার সক্ষমতা বাড়াতে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা Jan 31, 2026
img
সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর হীরার নেকলেস পরে চমকে দিলেন অভিনেত্রী মার্গট রবি! Jan 31, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কায় ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা, খাবার মজুদ করছেন অনেকে Jan 31, 2026
img
বাংলা একাডেমিতে ১ ফেব্রুয়ারি হবে অমর একুশে প্রতীকী বইমেলা Jan 31, 2026
img
৫ বছরের গুঞ্জনে নতুন ইঙ্গিত, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরা পড়লেন তৃপ্তি! Jan 31, 2026
img
বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে : সালাহউদ্দিন আহমদ Jan 31, 2026
img
হাতে সময় মাত্র ২৬ দিন, বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনে রশ্মিকা! Jan 31, 2026
img
একটা দল নাকি ৪০ লাখ বোরকা বানাইছে : মির্জা আব্বাস Jan 31, 2026
img
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা Jan 31, 2026
img
দীর্ঘ ৭ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় পাকিস্তানের Jan 31, 2026
সবরের অপব্যবহার করে যারা | ইসলামিক জ্ঞান Jan 31, 2026
কুমিল্লা নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কলেজ চাকরি মেলা Jan 31, 2026
img
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে আরও একটি ম্যাচ আমেরিকান ফুটবলের Jan 31, 2026
img
খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত : আমীর খসরু Jan 31, 2026
img

খামেনির উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি

ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে Jan 31, 2026
পডকাস্টে নিজের গল্প বললেন ফারিয়া Jan 31, 2026
img
সিনেমা না, ওটিটি দিয়েই মিলল জাতীয় পুরস্কার Jan 31, 2026
img
‘পরিণীতা’ রূপে বিদ্যা নন, কেন প্রথম পছন্দ ছিলেন ঐশ্বরিয়া? Jan 31, 2026
সাহসী চরিত্রে সারা, বাবা-মায়ের চোখে জল Jan 31, 2026