এপস্টেইন ফাইলস বিতর্কে এবার নাম জড়াল নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা মীরা নায়ারের। সদ্য প্রকাশিত নথিতে দেখা গিয়েছে, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা গিজলাইন ম্যাক্সওয়েলের বাসভবনে আয়োজিত একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন পরিচালক মীরা।
দাবি, ২০০৯ সালে মীরার ছবি ‘অ্যামেলিয়া’ মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবির প্রচারেই তিনি ওই পার্টিতে গিয়েছিলেন।
২০০৯ সালে জনসংযোগকর্মী পেগি সিগাল প্রয়াত ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলেন, সেখানে মীরা নায়ারের নাম উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার যে নতুন দফার নথি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যেই ওই ইমেইলটি রয়েছে। ইমেইলে বর্ণনা করা হয়েছে, ২০০৯ সালে মীরা নায়ারের চলচ্চিত্র অ্যামেলিয়া–সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানের পর গিজলাইন ম্যাক্সওয়েলের ম্যানহাটনের টাউনহাউসে আয়োজিত আফটার পার্টি থেকে সিগাল বেরিয়ে আসছিলেন।
২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর ভোরে পাঠানো ওই বার্তায় সিগাল লেখেন, ‘এইমাত্র গিজলাইনের টাউনহাউসে চলচ্চিত্রের আফটার পার্টি থেকে বের হলাম।
’ তিনি আরো জানান, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং মীরা নায়ার।
ইমেইলে আরো উল্লেখ করা হয়, অ্যামেলিয়া চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে খুব একটা উষ্ণ প্রতিক্রিয়া পায়নি। এরপর সিগাল ভবিষ্যতে যেসব চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্প–সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেগুলোর কথাও সেখানে উল্লেখ করেন।
এই ইমেইলটি বিচার বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশনায় উন্মুক্ত হওয়া কয়েক লক্ষ নথির একটি।
এসব নথি জেফরি এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।
উল্লেখ্য, অ্যামেলিয়া চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন মীরা নায়ার। এটি একটি জীবনীভিত্তিক নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র, যেখানে বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের চরিত্রে অভিনয় করেন হিলারি সোয়াঙ্ক এবং তার স্বামী, প্রকাশক জর্জ পুটনামের ভূমিকায় অভিনয় করেন রিচার্ড গিয়ার।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশনায় বিচার বিভাগ ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে।
এর পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে ২ হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি।
বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব উপাদানের মধ্যে এমন নথিও রয়েছে, যেগুলো ডিসেম্বরে প্রাথমিক দফায় প্রকাশ করা হয়নি। তখন অতিরিক্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছিল এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য সংবেদনশীল তথ্য সংশোধন বা গোপন রাখা হয়েছিল।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।
এসএন