বলিউড তারকা সালমান খান ও ‘দাবাং’ সিনেমার নির্মাতা অভিনব কাশ্যপের মধ্যে চলমান মানহানির মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন মুম্বাইয়ের একটি আদালত। নায়কের পক্ষে রায় ঘোষণা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আদালত নির্দেশ দিয়েছেন অভিনব কাশ্যপসহ সংশ্লিষ্টরা সালমান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অবমাননাকর বা মানহানিকর মন্তব্য করতে পারবেন না। আদালতের এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
রায়ে বিচারক পি. জি. ভোসালে স্পষ্টভাবে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কাউকে অপমানজনক বা ভীতিকর ভাষা ব্যবহারের অধিকার দেয় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, অভিনব কাশ্যপের মন্তব্য এবং কোমল মেহরু ও খুশবু হাজরের সাক্ষাৎকারগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পোস্ট, রি-পোস্ট, প্রচার বা পুনঃপ্রকাশ করা যাবে না। সব বিবাদী আদালতে হাজির হয়ে নোটিশের জবাব না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এ প্রসঙ্গে সালমান খান বলেন, 'একজন মানুষের সুনাম তার পরিচয়ের অংশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে তা নষ্ট করা যায় না।'
মামলার সূত্রপাত ‘বলিউড ঠিকানা’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত একাধিক ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ২৬টি ভিডিওতে সালমান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
মূলত ‘দাবাং’ পরিচালক ‘দাবাং ২’ সিনেমার পরিচালকের পদ থেকে সরে যাওয়ার পরই নেটদুনিয়ায় অভিনেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। যে কারণে সালমান খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা সহ তার পরিবারকে নিয়ে অবমাননাকর ভাষা নিয়মিত ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এ চলমান অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে সালমান খান নির্মাতা অভিনব কাশ্যপের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। নায়কের পক্ষে ডিএসকে লিগ্যাল আদালতে আবেদন করে জানায়, এসব মন্তব্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এখনও করছে।
তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং সুনামের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ কোটি রুপি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এসকে/এসএন