প্রাইমারি-মাধ্যমিক দুই মন্ত্রণালয়, পৃথিবীর আর কোথাও নেই: ড. মনজুর আহমেদ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভক্ত করে পরিচালনা করা বিশ্বের কোথাও নজির নেই। এই বিভাজনের কারণে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও হোলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখানো কঠিন হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে এবং সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতি ও অসংগতি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

ড. মনজুর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিবেদন প্রণয়ন ও আলোচনা করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ রূপকল্প, সমস্যার সঠিক রোগনির্ণয় এবং করণীয় নির্ধারণ করা জরুরি হলেও এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এখন কী করা হবে এবং কীভাবে করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি বিশাল আকারের আয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো শিক্ষা খাত পরিকল্পনা নেই। কোথায় যেতে চাই, কোন সময়ের মধ্যে কী অর্জন করতে চাই- বিশেষ করে সার্বজনীন ও মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের কোনো সময়বদ্ধ পরিকল্পনা নেই, যা বিস্ময়কর। এ জন্য একটি সমন্বিত শিক্ষা খাত পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি (পাঁচ বছর মেয়াদি) পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো বড় একটি প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৫৫ বছরে শিক্ষা সংস্কারবান্ধব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেই একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কমিশন গঠন করা সম্ভব হয়নি। যদিও বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, তবুও সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষা সংস্কার কেবল নীতিগত সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক, সাংগঠনিক এবং মানসিক পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে, সেগুলোর মধ্য দিয়েই কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়- সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এসব আলোচনা ও প্রতিবেদনই শেষ কথা নয়। এগুলো নিয়ে আরও গভীর সংলাপ, রাজনৈতিক আলোচনা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই শিক্ষা সংস্কারের পথে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম আবরার, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরীসহ অন্যান্য অংশীজনরা।

এসকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেও ব্যর্থ রিজওয়ান Feb 03, 2026
img
ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন হবে না বিএনসিসি: ইসি Feb 03, 2026
img
নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১০ Feb 03, 2026
img
ধানুষের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন, সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ম্রুণাল Feb 03, 2026
img
আর ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শফিকুর রহমান: মুফতি আমির হামজা Feb 03, 2026
img
ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গিয়েই বিতর্কের মুখে কারিনা কাপুর খান! Feb 03, 2026
img
ফারহান-আধুনার বিচ্ছেদ ছিল হঠাৎ ধাক্কা: হানি ইরানি Feb 03, 2026
img
জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে : ইরানের প্রেসিডেন্ট Feb 03, 2026
img
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট Feb 03, 2026
img
রহস্যময় পোস্টে জল্পনায় সাহেব ভট্টাচার্য! Feb 03, 2026
img
অ্যাশেজ ব্যান্ডে তুর্যের এক যুগ! Feb 03, 2026
img
শাহরুখের ৩৩ লাখের টাই পিন নিয়ে নতুন আলোচনার ঝড় Feb 03, 2026
img
হুমকি-ধামকি দিয়ে জামায়াতকে পরাজিত করা যাবে না: আব্দুল বাতেন Feb 03, 2026
img
শবেবরাতে যেসব দোয়া পড়বেন Feb 03, 2026
img
সকালের পর রাতেও ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ Feb 03, 2026
img
সমালোচনা করা অধিকার, তবে শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়: জামায়াত আমির Feb 03, 2026
img
পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীতে সংগীতশিল্পী ইমনের বিয়ের অজানা স্মৃতি! Feb 03, 2026
img
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি Feb 03, 2026
img
লাইটার জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য খালাস না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ Feb 03, 2026
img
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছি, কোথাও যাবো না : অর্থ উপদেষ্টা Feb 03, 2026