দীর্ঘ বিরতির পর থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নাটকীয়ভাবে ফিরে এসেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আভিশিত ভেজ্জাজিভা। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার দল ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রচারে নেমেছেন। অক্সফোর্ড থেকে পড়াশোনা করা এই অর্থনীতিবিদের ফেরা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যাংককের বাজারে নির্বাচনী প্রচারের সময় সাধারণ মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।
অনেক ভোটার মনে করছেন, অভিশিত আসার ফলে তাদের সামনে এখন ভোট দেওয়ার মতো ভালো একটি বিকল্প তৈরি হয়েছে। একসময় থাইল্যান্ডের দক্ষিণ অঞ্চল ও ব্যাংককে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল প্রভাব ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনেও দলটির ফলাফল ছিল খুব খারাপ। এখন অভিশিতের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর ভর করে দলটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অভিশিত তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে ডেমোক্র্যাট পার্টি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অভিশিতকে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০১০ সালে বিক্ষোভ দমনে সামরিক অভিযানে প্রায় ৯০ জন নিহত হন। যদিও আদালত তাকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে, তবুও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সেই ঘটনা নিয়ে আজও সমালোচনা করে।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে ক্ষমতাসীন ভুমজাইথাই পার্টি এবং প্রগতিশীল পিপলস পার্টির মধ্যে লড়াই চলছে। অভিশিত মনে করেন, শুধু পুরনো জনপ্রিয়তা নয়, বরং দলের নীতিতে পরিবর্তন এনেই তারা মানুষের মন জয় করতে পারবেন। বিশেষ করে বন্যার কবলে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আবারও ডেমোক্র্যাটদের ওপর ভরসা করতে শুরু করেছে।
ইউটি/টিএ