ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু চলচ্চিত্র রয়েছে, যেগুলো মুক্তির সময় পুরোপুরি মূল্যায়িত না হলেও সময়ের ব্যবধানে সেগুলোই পরিণত হয়েছে কিংবদন্তিতে। প্রযুক্তি, কল্পনা ও তারকাখ্যাতির দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকা দুই চলচ্চিত্র ‘এন্থিরান’ এবং ‘রা.ওয়ান’ আজও আলোচনায় থাকে ভিন্ন এক উচ্চতায়।
২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রজনীকান্ত অভিনীত ‘এন্থিরান’ পরিচালনা করেছিলেন শঙ্কর। সে সময় ভারতের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্র হিসেবে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। যুগান্তকারী ভিজ্যুয়াল প্রভাব, ভবিষ্যতধর্মী কাহিনি এবং রজনীকান্তের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় দর্শকদের সামনে এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেয়। বর্তমান সময়ের টিকিটমূল্য, বৈশ্বিক বাজার এবং বৃহৎ পর্দার আকর্ষণ বিবেচনায় অনেকের মত, আজ যদি এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেত, তবে বক্স অফিসে হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করা তার জন্য কঠিন হতো না।

অন্যদিকে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খান অভিনীত ‘রা.ওয়ান’ পরিচালনা করেন অনুভব সিনহা। ভারতে সুপারহিরো ঘরানার এক বিশাল মহাবিশ্ব গড়ার সাহসী প্রচেষ্টা হিসেবে এটি ছিল সময়ের অনেক আগের একটি নির্মাণ। উন্নত কম্পিউটার গ্রাফিক্স, ভিডিও গেমসনির্ভর কাহিনি এবং আকর্ষণীয় অ্যাকশন বিন্যাস সেই সময় দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও আজকের সুপারহিরোনির্ভর বাজারে এই চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। শাহরুখ খানের বৈশ্বিক ভক্তগোষ্ঠী এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রসারও সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করত।
সময়ের বিচারে এই দুই চলচ্চিত্র একসময় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এগুলোই হয়ে উঠতে পারত বক্স অফিসের খেলা বদলে দেওয়া দুই শক্তিশালী উদাহরণ।
এসকে/এসএন