লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে জানান, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশেই তিনি ওই সিলগুলো তৈরি করেছিলেন।
সোহেল রানার দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিল তৈরির অর্ডারটি দিয়েছিলেন শরীফ।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারিয়াম প্রেস থেকে পুলিশ ছয়টি অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোনসহ প্রেস মালিক সোহেল রানাকে আটক করে। এই ঘটনার পর জানা যায়, নির্দেশদাতার ভূমিকায় থাকা সৌরভ হোসেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামি তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করেছে।
জেলা জামায়াতের আমিরের ভাষ্যমতে, ভোটারদের ভোট প্রদান পদ্ধতি শেখানোর জন্য সিলগুলো বানানোর কথা বলা হলেও বিষয়টি দলের কাছে দায়িত্বহীন মনে হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেস মালিক তাদের দলের কেউ নন বলে দাবি করেছে জামায়াত।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, এগুলো কেবল ভোটারদের প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি কি না এবং দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপি বা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না।
পুলিশ বর্তমানে জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করছে এবং এর নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
টিজে/টিকে