সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জামায়াতে ইসলামীতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমিরের ছেলে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে দলটিতে যোগদান করেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।
আব্দুল কুদ্দুস উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাবা সাবেক ইউপি আব্দুল জলিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত হয়েই বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যানও ছিলেন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর নাশকতার মামলায় উল্লাপাড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামিও তিনি
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১৯৯৯ থেকে ২০২১ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ব পালন করা সাবেক আমির আব্দুস সামাদের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম আকবর আলীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি যোগদান করেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহজাহান আলী দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে জাত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা দেশব্যাপী সমালোচনা সৃষ্টি করছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আগুন ও অবৈধ ভোটের সিল তৈরির পর এবার সামনে এসেছে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরা উদ্ধার কিংবা কাউকে আটক করতে পারেনি। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে ৩ দিন পার হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২২ জানুয়ারি দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে তিনটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময়ে স্কুল ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা চলে যান। এরপর টানা তিনদিন স্কুল বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা দেখতে পান, নিচতলায় স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুইটি খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, চোর আটক বা সিসি ক্যামেরা উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাইনি। ২২ জানুয়ারি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ২৯ জানুয়ারি বিকেলে আমরা স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি যাই। সরকারি ছুটি শেষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এসে দেখি সিসি ক্যামেরা নেই।
এ ঘটনায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু না হয়, সেজন্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কাজ করা হয়েছে। এটি সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় ধরনের বাধা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, যাদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে তারাই ক্যামেরা চুরি করেছে। অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাশকতামূলক কার্যক্রমের লক্ষ্যে, ভোট কারচুপি ও ভোটকেন্দ্রে গোলযোগে সৃষ্টি করার পাঁয়তারা অংশ হতে পারে।
চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সিসি ক্যামেরা চুরির তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কেউ আটক নেই, আমরা স্থানীয়ভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছি।
এ ব্যাপার জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।মায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে আস্থা রেখে নতুন করে সক্রিয় হতে জামায়াতে যোগদান করেছেন।
জামায়াতর আমিরের ছেলে বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, শুনেছি সাবেক জামায়াত আমিরের ছেলে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার সাথে আমি সরাসরি কথা বলিনি। প্রায় ২৪ বছর আগে তার বাবা উপজেলা জামায়াতের আমির ছিলেন।
আরআই/টিকে