ছোটপর্দার সন্ধ্যাবেলার আবেগ আর রহস্য যেন নতুন করে দানা বাঁধছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’-তে। গল্পের বাঁকে বাঁকে এখন টানটান উত্তেজনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর অজানা রহস্যের ঘনঘটা। শহরে পড়াশোনার স্বপ্ন নিয়ে এসেছে লাজু, কিন্তু সেই আগমনই যেন নাড়া দিল অনুভব ও বনলতার দাম্পত্য জীবনের ভিত।
হোস্টেলে জায়গা না পেয়ে লাজুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে অনুভব। এই সিদ্ধান্তে ঘরের পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে। লাজুর উপস্থিতি মেনে নিতে পারে না বনলতা। সকলের সামনে নিজের দাম্পত্য সমস্যার কথা তুলে ধরে সে, আর সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যায় সম্পর্কের ফাটল। বিয়ের পর থেকেই বনলতার প্রতি অনুভবের অবিশ্বাস ক্রমশ গভীর হয়েছে। তার ধারণা, শুরু থেকেই বনলতা তাকে সত্য গোপন করেছে। পরিবারের সবাই যখন সম্পর্কটাকে আবার গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন অনুভব বরং দূরত্বই বেছে নেয়, সময় চায় নিজের মতো করে সব বোঝার জন্য।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গল্পে আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়। কলেজ যাওয়ার পথে আচমকাই বনলতাকে এক অচেনা পুরুষের সঙ্গে দেখতে পায় লাজু। ডেকে উঠলেও বনলতা সাড়া দেয় না, মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িতে উঠে চলে যায়। এই দৃশ্য লাজুর মনে সন্দেহের ছায়া ফেললেও সে দেরি না করে বাড়ি ফিরে সব খুলে বলে। কিন্তু মুখোমুখি হতেই বনলতা দৃঢ়ভাবে সব অস্বীকার করে, দাবি করে লাজু ভুল দেখেছে।
তবু অনুভবের মনে সংশয় আরও গাঢ় হয়। সে জানে, লাজু সহজে মিথ্যে বলে না। তাই নিঃশব্দেই সিদ্ধান্ত নেয় সত্যিটা সামনে আনবে। বনলতা কোথায় যায়, কেন গোপনীয়তা সবকিছুর উত্তর খুঁজতেই যেন এখন তার অদৃশ্য লড়াই। লাজু চাইলেও দুই মানুষের দূরত্ব কমাতে পারে না, বরং সন্দেহের দেয়াল আরও উঁচু হয়ে ওঠে। এক অচেনা মুহূর্ত, এক ঝলক দেখা আর কয়েকটি অস্বীকার এসব মিলিয়েই এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, বনলতা কি সত্যিই কিছু লুকোচ্ছে, নাকি এই সন্দেহের আড়ালেই রয়েছে অন্য কোনও অজানা সত্য।
পিআর/টিকে