স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি না : মির্জা ফখরুল

স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় নির্বাচনি সভায় এ মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? আমি আপনাদের কাছে পরিষ্কার জানতে চাই-পারি? পারি না ভাই। এটা হচ্ছে নৈতিকতার প্রশ্ন, আমার দেশ বাংলাদেশ, আমি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এই দেশ যে বিশ্বাস করে না, সে আমার দেশের উন্নতি করবে কেমন করে? তারা তো এই দেশটাকেই বিশ্বাস করে না। আমরা সেজন্য পরিষ্কার করে বলতে চাই-আমরা জামায়াতে ইসলামীকে এই জন্য ভোট দেব না, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ তারা আমাদের স্বাধীনতা-সার্ভভৌমত্বের প্রশ্নে রক্ষা করতে পারবে কি? পারবে না।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটটা আমার দেশের স্বাধীনতাকে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য একটা বড় সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতকে আগে দেখছেন আপনারা? আমরা দেখছি। আমরা স্বাধীনতার আগেও জামায়াতকে দেখছি, তার আগে আমাদের বাবা-চাচারা দেখছে। আমার আব্বা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়া প্রায় সময় বলতেন-‘জামায়াত থেকে সাবধানে থাইকো। আমি বলতাম কেন-তিনি বলতেন জামায়াত একটা মুনাফেক দল। কথা বলে এক রকম, কাজ করে আরেক রকম।’

তিনি বলেন, জামায়াত পাকিস্তান আন্দোলনে সমর্থন করে নাই। এটা সত্য কথা, ইতিহাসের কথা। আবার ১৯৭১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করলাম তখন তারা বিরোধীতা করলো, আমার স্বাধীনতার বিরোধীতা করলো।

বলল, পাকিস্তান ভাঙার কোন দরকার নাই। পাকিস্তান কি আমরা ভাঙছি স্বাদে? পাকিস্তানিরা যখন আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করছে, আমাদের গুলি করে মারতে শুরু করছে-তখনি না আমরা যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভাঙছি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমার দেশের লোককে গুলি করে হত্যা করছে, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করছে। ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করছে। সেসময় জামায়াত পাকিস্তান বাহিনীকে সমর্থন করছে।

এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সকলের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। নির্বাচিত হলে সারের সংকট দূর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এমআর/টিকে 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীকে জরিমানা Feb 06, 2026
img
ভোটের পর ভ্যালেন্টাইন উদযাপনের কথা জানালেন অপু বিশ্বাস Feb 06, 2026
img

ইউরোপিয়ান ফুটবল

সবচেয়ে বেশি খরচ করা ক্লাবের তালিকায় শীর্ষে ম্যানসিটি Feb 06, 2026
img
ভবিষ্যত রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না শেখ হাসিনা: মির্জা ফখরুল Feb 06, 2026
img
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি মার্চের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত হবে Feb 06, 2026
img
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী Feb 06, 2026
img
তারেক রহমানকে বিদিশা এরশাদের খোলা চিঠি Feb 06, 2026
img
খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আ. লীগ নেতা রফিকুল আলম গ্রেফতার Feb 06, 2026
img
ক্ষমতায় গেলে আমরা স্বর্ণের বাংলা নির্মাণ করব: চরমোনাই পীর Feb 06, 2026
img

নারায়ণগঞ্জ-৪

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা Feb 06, 2026
img
বিএনপি ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা আর কেউ দেয়নি : হুমায়ুন কবির Feb 06, 2026
img
বিগ ব্যাশে ১৫ উইকেট নিয়েও সন্তুষ্ট নন রিশাদ, জানালেন কারণ Feb 06, 2026
img
পর্যটক ভিড় নিয়ন্ত্রণে জাপানের ঐতিহ্যবাহী ‘চেরি ব্লসম’ উৎসব বাতিল Feb 06, 2026
img
চাঁদপুরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১৫ Feb 05, 2026
img
জামায়াত নেতারা মনে করেন জান্নাত তাদের পৈতৃক সম্পত্তি: রাশেদ খান Feb 05, 2026
img
যশোরে নারীকে হেনস্তার ঘটনায় ৭ জনকে তলব Feb 05, 2026
img
পুরো দেশ ও জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে: নৌবাহিনী প্রধান Feb 05, 2026
শীতকালীন দলবদলে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর দাপট Feb 05, 2026
হঠাৎ বিদায়ের ঘোষণা তরুণ অভিনেত্রীর Feb 05, 2026
img
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ পক্ষের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ আহত ২০ Feb 05, 2026