বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, পরিবার তন্ত্র আর চলবে না। বাংলাদেশে শুধু রাজার ছেলেই রাজা হবে তা নয় বরং একজন কৃষকের ছেলেও যদি যোগ্যতা সম্পন্ন হয় তাহলে মানুষের দায়িত্ব তাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং বাংলাদেশকে যদি নিরাপরাধ ও মানবিক করতে চান, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত নিরাপরাধ বাংলাদেশ উপহার দিতে চান তাহলে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে এই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আপনাদেরকে আহ্বান জানায়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে সম্পদ রয়েছে গত ৫৪ বছরে সেই সম্পদকে লুণ্ঠন করে বিদেশি বিরিয়াদের মতো লুটপাটের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল। এ দেশ থেকে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করে দেউলিয়া করে দিয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে যারা লুটপাটের সহযোগী ছিল ঋণ খেলাপী যারা ছিল এমন ২৬ জন ঋণ খেলাপীকে মনোনয়ন দিয়ে আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। যারা ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাবস্থাকে উন্নতি করতে পারবে শয়তানও তা বিশ্বাস করে না।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, এরা বিগত ১০ বছর যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতি তারা রাখে নাই। তারা বলেছিল কৃষকদেরকে পাঁচ হাজার টাকার সুদমুক্ত ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে কিন্ত তারা কথা রাখেনি। স্বাস্থ্য বীমা, বেকার ভাতা, কৃষকদের নায্য মূল্যে সার দেওয়ার কথা বলেও কথা রাখে নাই্।
তারা ঘোষিত বেঈমান। তারা কথা দিয়ে কথা রাখে না এটা জাতি প্রমাণ পেয়েছে। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশের সূচনা করার জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাতে ভোট দিয়ে ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে দেড় বছরের মধ্যে ২৩২ জন বনী আদমকে তারা হত্যা করেছে। জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে তারা হত্যা করেছে। নিজেদের ক্ষমতার লোভে আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের মতো পাথর মেরে তারা মানবতাকে বিধংস করেছে। যারা ক্ষমতায় আসার আগেই এতো মানুষকে হত্যা করতে পারে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পরে এদেশকে শ্বশানে পরিনত করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চাকসুর ভিপি, ইব্রাহিম রনিসহ প্রমুখ। এছাড়াও জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরআই/টিকে