আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময় উপযোগী করে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করার কথা বলা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শিক্ষাবিষয়ক ইশতেহারের বলা হয়েছে, বিএনপির শিক্ষানীতি হবে জীবনমুখী। শিক্ষার সব স্তরে জোর প্রদান করা হবে, তবে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এরই অংশ হিসেবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।
শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ প্রদান : শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এই অর্থ কেবল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে, বিশেষকরে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হবে।
তাঁদের যথাযথ ট্রেনিং দেওয়া হবে। প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাসামগ্রীর উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে ভবিষ্যতে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে।
ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব : প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা অর্জনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদান করা হবে।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন : শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে কারিকুলাম ও নৈতিক শিক্ষার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা) : ক্লাস সিক্স থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট), পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে।
বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা : দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।
সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা : আত্মকর্মসংস্থান এবং দেশ ও বহির্বিশ্বে চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সিলেবাসকে এমনভাবে সাজানো হবে যেন একটি পরিবার তার সন্তানকে এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েটের বেশি না পড়াতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষা দ্বারাই সে যেন নিজের জন্য কর্মসংস্থান করে নিতে পারে।
আরআই/টিকে