জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ নেতাকর্মী আহতের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে তারা এই নিন্দা জানান।
হাদির বিচার না হওয়ার পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। আহতদের দ্রুত তাদের চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে, যা নিন্দনীয়। সরকার কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। সরকারের মধ্যে ভেতরের কেউ থাকতে পারে। সাংবাদিকসহ ৩০ থেকে ৪০ জন আহত।
দ্রুত তাদের চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কোনো ভাবেই কাম্য না।
আহতদের দেখতে এসে জামায়াত নেতারা বলেছেন, ন্যায্য দাবি আদায় করতে গেলে সরকারি পেটুয়া বাহিনী ন্যাক্কারজনক ভাবে হামলা করেছে। সরকারের উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে বক্তব্য শোনা এবং কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি ছিল, সুশৃঙ্খল আন্দোলন ছিল। কিন্তু সরকারের পেটোয়া বাহিনী নির্মম হামলা চালিয়েছে, তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশের উচিৎ ছিল ট্যাকেল দেয়া। কেউ উস্কানি দিয়ে এমন করাচ্ছে। আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকার পক্ষ হতে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের দাবি অনুযায়ী আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শরীফ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচিকে ঘিরে আগে থেকেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ব্যারিকেড বসায় পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ আহত হন অর্ধশত নেতাকর্মী।
কেএন/টিকে