© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়তে দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে হবে: হামিদুর রহমান আযাদ

শেয়ার করুন:
জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়তে দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে হবে: হামিদুর রহমান আযাদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৭ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনায় দেশ গড়তে হলে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমবাজদের রাজনীতি থেকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটারদের সতর্ক করে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মহেশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘মহেশখালী আগামী দিনে “ব্লু ইকোনমি”র কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে, পণ্যদ্রব্যের দাম হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও মৎস্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘দেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় মেধা পাচার হচ্ছে। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাবে।’

নির্বাচিত হলে তিনি মহেশখালীতে বিদ্যমান গোষ্ঠীগত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং লবণ আমদানির পরিবর্তে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন।

নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শত কোটি টাকার কাজ করেও তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কোনো দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করে। মহেশখালী-কুতুবদিয়া স্বর্ণ নয়, হীরা। এ হীরার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সৎ, যোগ্য ও আমানতদার নেতা হিসেবে ড. হামিদুর রহমান আযাদের বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনে ড. হামিদুর রহমান আযাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবেন। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা এই অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক। এমপি নয়, মন্ত্রী নির্বাচনের সুযোগ এসেছে; তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচিত ইসলামী বক্তা শাইখ আলী হাসান ওসামা বলেন, ‘ভোট একটি আমানত। ন্যায়বিচার, ইনসাফ, বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকৃত শরিয়াহর চেতনা।’ তিনি উপস্থিত জনতাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন