প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাধারণ মানুষের ৪০ হাজার ‘চিঠি’!
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৫ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ আর স্বপ্নের এক বিশাল দস্তাবেজ এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে।১৩তম সাধারণ নির্বাচন ও 'জুলাই জাতীয় সনদ' গণভোটকে সামনে রেখে 'দেশের চাবি, আপনার হাতে' স্লোগানে দেশজুড়ে যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে 'ভোটের গাড়ি'র বিশেষ জনমত বাক্সে জমা পড়েছে ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষের হাতে লেখা মন্তব্য। দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পট থেকে সংগৃহীত এসব চিরকুটে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিসহ উঠে এসেছে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার চিত্র।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য জমা পড়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য এসেছে। গাজীপুরের ১০ বছর বয়সী শিশু রাফা যেমন নিরাপদ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তেমনি ঠাকুরগাঁওয়ের এক দিনমজুর জানিয়েছেন সিন্ডিকেটের কারণে গরুর মাংস কিনে খেতে না পারার তীব্র কষ্টের কথা। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন। বরিশালের সাদিক শিক্ষকদের মানোন্নয়নের দাবি তুলেছেন, আর পিরোজপুর থেকে এসেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার দাবি। অন্যদিকে দিনাজপুরের নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুততম সময়ে ধর্ষণের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের কোনো রকম রাখঢাক ছাড়া লেখা এসব সাবলীল ও আবেগঘন মন্তব্য পড়ে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তিনি জনগণের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাই কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়াই প্রশংসা, পরামর্শের পাশাপাশি সব সমালোচনা ও নিন্দাও অবিকৃতভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এমআর/এসএন