© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমিনুলের হারে বিস্মিত ক্রীড়াঙ্গন!

শেয়ার করুন:
আমিনুলের হারে বিস্মিত ক্রীড়াঙ্গন!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০০ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই ভোটের মাঠে লড়েছেন। পুরো ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বেশি নজর ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের ওপর। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও আমিনুল হক পরাজিত হয়েছেন। এতে পুরো ক্রীড়াঙ্গন বিস্মিত হয়েছে।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের দীর্ঘদিনের বন্ধু গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। জাতীয় দলে তারা এক যুগের বেশি সময় রুমমেট ছিলেন। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হারে অত্যন্ত ব্যথিত বিপ্লব বলেন, ‘আমিনুলের হার মেনে নেওয়ার মতো নয়। খেলোয়াড় হিসেবে তার যেমন পরিচিতি, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সে অত্যন্ত ত্যাগী। এরপরও আমিনুল হারছে এটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না।’

আমিনুলের আরেক সতীর্থ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার ও মোহামেডানের ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। তার কাছেও আমিনুলের হার অবিশ্বাস্য লাগছে, ‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না আমিনুল হেরেছে। দলের প্রতি তার নিবেদন, মিরপুরের জনগণের প্রতি ভালোবাসা সর্বোপরি খেলোয়ড় হিসেবে তার সাফল্য ও পরিচিতি কোনো কিছুতেই আমিনুলের হার কাম্য ছিল না।’

উপমহাদেশে দাবায় প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ জাতীয়বাদী ক্রীড়া দলের আহ্বায়ক। আমিনুলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। তার মতে, ‘শুধু খেলোয়াড় বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সে খুব যোগ্য। আমিনুল অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এত ত্যাগ, কষ্ট ও পরিশ্রমের ফল তার পাওয়ার উচিত ছিল।’

নিয়াজ মোর্শেদ আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘মিরপুরের তিনটি আসন। তিন আসনেই বিএনপি হেরেছে, এখানে অন্য কোনো ইস্যু থাকতে পারে।’ নিয়াজ মোর্শেদের মতোই খানিকটা আঁচ আমিনুলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ বিপ্লবের। তার পর্যবেক্ষণ, ‘রাজনীতি আসলে জটিল জিনিস। কাছের কেউ সেভাবে কাজ করেনি বা সহযোগিতা করেনি।’

আমিনুলের নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও কয়েক দিন জনসংযোগ করেছেন আমিনুলের পক্ষে। আমিনুলের হারে তিনিও অত্যন্ত ব্যথিত।

ক্রীড়াঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা বিএনপি সরকার গঠন করলে আমিনুল ক্রীড়ামন্ত্রী হবেন। সংসদ সদস্য না হতে পারলেও সেটার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। মন্ত্রীপরিষদে সংসদ সদস্যের বাইরের কাউকেও অর্ন্তভুক্ত করা যায়। সেই আশায় করছেন নিয়াজ মোর্শেদ, ‘এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুলই। দল চাইলে তাকে টেকনোক্রেট হিসেবে মন্ত্রী করতেই পারে।’ নিয়াজ মোর্শেদের মতোই চাওয়া আমিনুলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ বিপ্লবের, ‘আমিনুল গত এক দশক যে পরিমাণ জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছে যা অনেক শীর্ষ নেতাও করেননি। তার অবদান ত্যাগের বিষয়ের পাশাপাশি যোগ্যতা বিবেচনায় তাকে সম্মান দেয়া উচিত। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনই উপকৃত হবে।’

এবার সংসদ নির্বাচনে সাবেক খেলোয়াড়, সংগঠক অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন। সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাফুফের সাবেক সভাপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩, মোহামেডানের সাবেক নীতিনির্ধারক মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা-৬, ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬, সাবেক ভলিব খেলোয়াড় এহসানুল হক মিলন চাঁদপুর-১, মোহামেডানের সাবেক সহ-সভাপতি ও মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবের দীর্ঘদিনের সভাপতি শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৬, ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবি খুলনা-৫, ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সদস্য কামরুজ্জামান রতন মুন্সিগঞ্জ-২, সাবেক ক্রীড়া মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮, বাফুফের জামালপুরের কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানের ছোট ভাই ওয়ারেস আলী মামুন। এরা জিতলেও আমিনুলের হার ক্রীড়াঙ্গনে বেদনার নীলে আক্রান্ত।

খেলার ম্যাচের মতোই আমিনুল নির্বাচন মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কখনো কোনো কেন্দ্রে তিনি এগিয়ে আবার অন্য কেন্দ্রে তার প্রতিপক্ষ জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বাতেন। শেষ পর্যন্ত আমিনুলের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোট বেশি পেয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

গতকাল রাতে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন দাড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৬,৮২৩ আর আমিনুল হক ধানের শীষে ৮৪,২০৭ ভোট পাওয়ার ফলাফল দেন। পোস্টাল ব্যালট বাকি থাকায় আমিনুলের জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে ছিল। তবে আজ শুক্রবার সকাল সোয়া আটটার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে আমিনুলের পরাজয়ের ঘোষণা দেন।

ঢাকা-১৬ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৬ শতাংশ। ঢাকা-১৬ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪৯৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৩ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৪টি। সে হিসেবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৯টি। এ আসনে মোট ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম হাত পাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৬৭৯ ভোট ও লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সুলতান আহম্মেদ সেলিম ১ হাজার ৪৬৪ ভোট পেয়েছেন।

টিকে/

মন্তব্য করুন