নেপালের সাথে জয়ের পর এবার ইংল্যান্ডকে হারানোর হুঙ্কার ইতালির
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৩ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েছে ইতালি। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা নেপালকে হারিয়েছে। তাদের দেওয়া ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জেতে ইউরোপীয় দেশটি। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারানোর হুঙ্কার দিয়েছে ইতালি। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি দুই দল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে মুখোমুখি হবে।
বিশ্বকাপে ইতালির প্রথম জয়ের পর দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সিমোনে গাম্বিনো আবেগাপ্লুত হয়েছেন। ওই সময় তার পাশে ছিলেন এক পুরোনো বন্ধু এবং ভারতীয় অভিনেতা কবীর বেদি। পরে দুজন ইতালিয়ান ভাষায় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন। সেই ভিডিও ইতালি ক্রিকেটের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে অতীত স্মৃতি স্মরণ করে গাম্বিনো বলেন- তিনি যখন সাধারণ ইতালিয়ানদের শচীন টেন্ডুলকার সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন, তারা জবাবে বলতো- ইতালিতে কেবল কবীর বেদিকেই চেনেন!

মূলত ১৯৭৬ সালের ইতালীয় জনপ্রিয় মিনিসিরিজ ‘সানদোকান’-এ অভিনয় করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন কবীর বেদি। সিরিজটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক বিদ্রোহী জলদস্যুকে ঘিরে। গাম্বিনো বলেন, ইতালিতে তারা শুধু আপনাকেই চেনে- মালয়েশিয়ান টাইগার, কবীর বেদি। ৫০ বছর আগে তিনি যখন বলতেন যে তিনি ক্রিকেট খেলেন, তখন অনেকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত।
বিশ্বকাপে খেলা এবং অভিষেক আসরেই জয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি অকল্পনীয় ইতালিয়ান ক্রিকেটের প্রধানের কাছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এখন সেমিফাইনালেও খেলার স্বপ্ন দেখছেন গাম্বিনো, ‘আমি কখনও কল্পনাও করিনি এই মুহূর্ত আসবে। কিন্তু এখন আমরা সরাসরি কলকাতায় গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারাতে চাই। আমরা সেমিফাইনালে উঠতে চাই।’
এর আগে নেপালের বিপক্ষে জয়ের পর ইতালির উদযাপন ছিল বেশ আবেগঘন। গান গাইতে গাইতে পা ঠুকছিল এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের মেঝেতে ব্যাট ঠুকতে ঠুকতে উচ্চস্বরে যুদ্ধ-ঘোষণা দেয়। ইতালিয়ান ভাষায় ক্রিকেটাররা গাইতে থাকে- জার্সি…নীল। আমরা প্রস্তুত, প্রয়োজনে মৃত্যুবরণ করতে…দলের জন্য জীবন দিতে চাই, আমরা ইতালি!
এর আগে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বে ইতালির সাবেক ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান ‘বোবো’ ভিয়েরি একটি বার্তায় ইতালীয়দের উদ্দেশে বলেন, ক্রিকেট একটি দারুণ খেলা। তিনি শৈশবে দেখা অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের স্মৃতিচারণ করেন, ‘ভিভ রিচার্ডস, জোয়েল গার্নার, ম্যালকম মার্শাল- ওরা অসাধারণ প্রতিভা। অনেক ইতালীয় হয়তো ক্রিকেট চেনে না। কিন্তু আমি এখানে আছি, আর আমি এ সম্পর্কে জানি।’
আরআই/টিকে