আর্সেনালকে আতঙ্কে রাখছে গার্দিওলার অবিশ্বাস্য রেকর্ড!
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৪ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে আবারো চলছে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ দুইবার এই দুই দল যখন শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে ছিল, সিটিই হেসেছিল শেষ হাসি। মূলত শিরোপার লড়াইয়ে গার্দিওলার দল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর গা ঘেষে থাকলেই চমকে দেয়।
যেমন ২০২২-২৩ মৌসুমে সিটির শিরোপা জেতার আসরে আর্সেনাল পাঁচ পয়েন্টের জন্য পিছিয়ে ছিল এবং পরের মৌসুমে তো গানাররা আরও কাছে ছিল। কিন্তু মাত্র দুই পয়েন্ট কম নিয়ে স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্সেনালের।
বর্তমানে আর্সেনাল টেবিলের শীর্ষে চার পয়েন্টে এগিয়ে আছে। কিন্তু গার্দিওলার ক্যারিয়ারের একটি পরিসংখ্যান তার সাবেক শিষ্য মিকেল আর্তেতার মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে। গার্দিওলা শিরোপার জন্য কাছাকাছি লড়াইয়ে যখন থাকেন, তখনই যেন সেরাটা বের হয়ে আসে। এটা ঝুঁকিপূর্ণ দাবি মনে হলেও পরিসংখ্যান এর সত্যতা তুলে ধরছে।
২০০৭ সালে কোচ হওয়ার পর থেকে গার্দিওলা মাত্র চারটি মৌসুমে শিরোপা জিততে পারেননি। ওই চারটি মৌসুমের ২৬টি ম্যাচের পর (প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে খেলা ম্যাচের সংখ্যা) শিরোপা মূলত তার হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল।
২০১১-১২ সালে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে গার্দিওলা এই পর্যায়ে এসে হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পেছনে ছিলেন। আর সিটির সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১০ পয়েন্ট, ২০১৯-২০ এ ২২ ও ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৯ পয়েন্ট পেছনে ছিলেন গার্দিওলা।
ওই মৌসুমগুলোতে বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিল এবং সিটি যথাক্রমে তৃতীয়, দ্বিতীয় এবং আবারো তৃতীয় হয়েছিল। ওই তিন মৌসুম ছাড়া স্প্যানিশ কোচিং ক্যারিয়ারের প্রতিটি মৌসুমে শিরোপা জিতেছেন।

অর্থাৎ, মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে তার দল যখনই শীর্ষ ক্লাবের চেয়ে অন্তত পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল, তখনই তিনি শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন। এই মৌসুমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিভারপুলের সঙ্গে। ২৬ ম্যাচ শেষে রেডরা তিন পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ছিল।
মৌসুমের শেষ ম্যাচের আগে সিটি মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ছিল। তারা ও লিভারপুল উভয়ই শেষ ম্যাচে জিতেছিল, মানে সিটিজেনরা তাদের এক পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
২০২২-২৩ মৌসুমের ২৬ ম্যাচ শেষে সিটি আর্সেনালের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। ৩০তম ম্যাচডেতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার আগে সেই ব্যবধান বজায় রেখেছিল আর্সেনাল। এরপর তারা লিভারপুলের সাথে ২-২ ড্র করে পয়েন্ট হারায় এবং সিটিজেনরা সাউদাম্পটনকে ৪-১ গোলে হারায়।
লিভারপুল ম্যাচে ফিরে আসার আগে গানাররা ২-০ তে এগিয়ে ছিল এবং পরের সপ্তাহে সিটি আবার জিতলে এবং আর্তেতার দল ড্র করলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় এক পয়েন্টে।
মৌসুমের ৩২তম ম্যাচে উভয় দলই ড্র করেছিল, এরপর সিটি ৩৩তম ম্যাচে আর্সেনালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান পাঁচ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
যদিও আর্সেনাল এই মুহূর্তে শীর্ষে আছে, তবে সিটি যে তাদের ধরে ফেলবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই হয়তো সিটি তাদের শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলবে, গার্দিওলার দল যেটা করে থাকে। এই ধারা বজায় থাকলে আরেকবার শিরোপার আশা ভেঙে চুরমার হবে আর্সেনালের।
এসকে/এসএন