অভিনয় জীবনে অতৃপ্তি থেকেই কি আক্ষেপ তনুকার?
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ এএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলায় সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর দর্শকের ভালোবাসা সবই পেয়েছেন, তবু কোথাও যেন এক অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে আছে অভিনেত্রী তনুকা চট্টোপাধ্যায়-এর কণ্ঠে। মঞ্চ থেকে ছোটপর্দা, ছোটপর্দা থেকে বড় পর্দা সময়ের স্রোতে বহু চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন তিনি। তবু হঠাৎই সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি শব্দ, একটি প্রশ্নচিহ্ন, আর সঙ্গে আতঙ্কের ইঙ্গিত সেই ক্ষণিক প্রকাশ যেন বহু না-বলা কথার দরজা খুলে দিল।
অর্থনীতিতে পড়াশোনা করা এক তরুণী যখন অভিনয়ের টানে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে অজানার পথে হাঁটেন, তখন সেই সিদ্ধান্তের মূল্য কম ছিল না। পরিবারের রাগ, অনিশ্চয়তার ভয় সবকিছুকে পাশে সরিয়ে প্রথমে মঞ্চ, তারপর ধারাবাহিকের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তনুকা। একের পর এক জনপ্রিয় কাজ তাঁর ঝুলিতে জমেছে, দর্শকের প্রশংসাও কম আসেনি। তবু সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে চরিত্রের ধরন, বদলেছে গল্প বলার ভঙ্গি, আর সেই পরিবর্তনের মাঝেই কোথাও যেন নিজের জন্য আলাদা জায়গা খুঁজে না পাওয়ার আক্ষেপ উঁকি দিয়েছে।

তাঁর কথায় স্পষ্ট, একসময় চরিত্র মানেই ছিল গভীরতা, ছিল নিজস্ব মাত্রা। এখন সেই জায়গায় অনেক সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন অন্য কারও গল্পের একটি অংশমাত্র। মা, কাকিমা, মাসিমা কিংবা ঠাকুরমার চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিলেও, অন্তরের কোথাও প্রশ্ন জাগে তাঁর নিজের গল্প কি তবে কোথাও হারিয়ে গেল? শিল্পীর এই স্বীকারোক্তি কেবল ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং সময়ের পরিবর্তনে শিল্পমাধ্যমের রূপান্তরেরও এক নিঃশব্দ প্রতিফলন।
তবে এই আক্ষেপের মাঝেও তিনি অস্বীকার করেন না বর্তমানকে। নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা, দর্শকের স্বীকৃতি সবই তাঁর প্রাপ্তির ঝুলিতে রয়েছে। তিনি জানেন, বদলই স্বাভাবিক, আর সেই বদলের সঙ্গেই নিজেকেও বদলাতে হয়। তবু কখনও কখনও পুরোনো দিনের সংবেদনশীলতা, সহনশীলতা আর চরিত্রের গভীরতার স্মৃতি ফিরে এলে মনখারাপের মেঘ জমে। সেই মেঘই হয়তো মাঝে মাঝে শব্দ হয়ে সমাজমাধ্যমে ভেসে ওঠে, আবার নীরবতাতেই মিলিয়ে যায়।
পিআর/এসএন