স্মিথকে সাইডলাইনে বসিয়ে রাখা অপমানজনক: মার্ক ওয়াহ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৮ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সবশেষ বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্টিভ স্মিথকে বিবেচনা করা হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচের আগে অধিনায়ক মিচেল মার্শ অণ্ডকোষে আঘাত পেলে কাভার হিসেবে উড়িয়ে আনা হয় স্মিথকে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচের পর জশ হ্যাজেলউড বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় তার জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্ত করা হয় এই ব্যাটারকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্মিথ ড্রেসিংরুমে বসে দেখেছেন অজিদের হতাশাজনক হার, যা তাদের ছিটকে দিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘বাঁচামরা’র ম্যাচে স্মিথকে সাইডলাইনে বসিয়ে রাখায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট। এই ম্যাচের আগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি আট উইকেটে হেরে যায়। দারুণ শুরুর পরও ভয়াবহ ব্যাটিং ধস নামায় শেষ ৭৭ রান তুলতে ১০ উইকেট হারায় অজিরা। সাইডলাইনে বসেই সেই বিপর্যয় দেখেন স্মিথ। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
অধিনায়ক মিচেল মার্শের কাভার হিসেবেই স্মিথকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল। তবে মার্শ ফিরে এসে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন, ফলে একাদশে জায়গা হয়নি স্মিথের। ওপেনিংয়ে নেমে মার্শ ও হেড দুজনই অর্ধশতক করেন।
নতুন বলে বিগ ব্যাশে দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে স্মিথকে মূলত ওপেনার হিসেবেই ভাবেন। ২০২২ সালের দিকে মিডল অর্ডারে ধীরগতির ইনিংসের জন্য তাকে দল থেকে বাদও দেওয়া হয়েছিল। তবুও অনেক অস্ট্রেলীয় সমর্থক আশা করেছিলেন, ফর্মহীন ক্যামেরন গ্রিন অথবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে কাউকে বাদ দিয়ে স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলতে পারা স্মিথকে জায়গা দেওয়া হবে।

শেষ পর্যন্ত মার্শ ফেরায় জায়গা ছাড়তে হয় ম্যাট রেনশকে, যিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের ম্যাচে লড়াকু ৬৫ রান করেছিলেন। আগের ম্যাচে হাতে চোট পেলেও মার্কাস স্টয়নিসও ফিট ঘোষিত হন।
অস্ট্রেলিয়া শেষ বিশ্বকাপের (ক্যারিবিয়ানে) পর দুই বছরে যে শক্তিশালী টপ-সেভেন গড়ে তুলেছিল, সেটির ওপরই আস্থা রাখে। ফলে স্মিথ বা রেনশ’র মতো ফর্মে থাকা টেকনিক্যাল ব্যাটারদের জায়গা হয়নি। স্পিন-অলরাউন্ডার কুপার কনোলিকে ৮ নম্বরে নেওয়া হয়, তাতে বাদ পড়েন স্পিনার ম্যাথু কুহনেমান।
নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি অনেকেই।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার মার্ক ওয়াহ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এসইএনকিউ ব্রেকফাস্টে বলেন, 'আমার মনে হয় (দল) নির্বাচনে তারা পুরোপুরি ভুল করেছে। আপনার সেরা খেলোয়াড়-অনেক ব্যবধানে (বাকিদের চেয়ে)-স্টিভ স্মিথ সাইডলাইনে বসে আছে… সত্যি বলতে এটা স্মিথের প্রতি অপমান।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয় শুরু থেকেই এই ক্যাম্পেইন নির্বাচন আর চোট সমস্যায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। প্রস্তুতিও ভালো ছিল না। আমরা তুলনামূলক দুর্বল গ্রুপে থেকেও পরিস্থিতি যেদিকে গিয়েছে, সেটা আমি আগেই আশঙ্কা করেছিলাম।'
স্মিথকে না খেলানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'স্টিভ স্মিথকে প্রথমে দলে না নেওয়া-এটা বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যজনক সিদ্ধান্ত। বিগ ব্যাশে সে সবার চেয়ে আলাদা মানের ব্যাটিং করেছে।
সে দুর্দান্ত ফিল্ডার, স্পিনের বিপক্ষে অসাধারণ। তাকে প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ছিল। অথচ দলে নেওয়া হয়নি… বদলি হিসেবেও প্রথমে ডাকা হয়নি… পরে দলে নিয়েও খেলানো হয়নি।'
'আর ম্যাট রেনশ, যে কিনা কয়েকজন ফর্মে থাকা খেলোয়াড়ের একজন-তাকেও বড় ম্যাচে বাইরে রাখা হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ফর্ম খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। তাই যারা ফর্মে আছে, তাদেরই খেলানো উচিত-কারণ এখানে আত্মবিশ্বাস গড়ার সময় খুব কম,'–তিনি যোগ করেন।
ওয়াহর সাবেক সতীর্থ ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'রেনশ’ হাই-ভিজ ভেস্ট পরে কী করছে? আমরা যে দল নামিয়েছি, সেখানে কোনো ক্লাসের ছাপ নেই। বোলিং আক্রমণ ভয়াবহ দুর্বল।'
অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, 'আমরা প্রতারিত হয়েছি।'
অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ড ক্রিকেট যেভাবে সমালোচনার মুখে পড়েও একরকম জেদী মনোভাব দেখিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার অবস্থাও তেমনই ছিল। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো সূক্ষ্ম কৌশলনির্ভর কন্ডিশনে তারা শক্তির ওপর ভর করে গড়া দল নামিয়েছিল।
হিলি যোগ করেন, 'পুরো আত্মবিশ্বাস ছিল-সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আগেও এসব কথা শুনেছি, যখন ইংল্যান্ড এখানে এসে বলেছিল খেলা বদলে গেছে এবং তারা সব বুঝে ফেলেছে।'
অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ব্যাটার সাইমন ক্যাটিচ এসইএন'র ‘হোয়াটেলি’ অনুষ্ঠানে সমালোচনায় যোগ দেন।
ক্যাটিচ বলেন, 'নিঃসন্দেহে (স্মিথের খেলা উচিত ছিল)। ফর্মের ভিত্তিতে এবং ওই কন্ডিশনে-পাওয়ার প্লের পর স্পিনের বিপক্ষে আমাদের সেরা ব্যাটার কে? আমি জানি প্রস্তুতি ম্যাচে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অন্যরা দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু টপ সিক্স বা সেভেনের কয়েকজনের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ছিল। স্টিভ স্মিথকে কোথায় খেলানো হবে—এটাই ছিল চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু তাদের একটা উপায় বের করতেই হতো। সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক সিদ্ধান্ত ছিল-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এত ভালো খেলার পরও কীভাবে রেনশ’কে বাদ দেওয়া হলো? সে তো পরিষ্কারভাবে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটার মনে হচ্ছিল।'
অজি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগার ইএসপিএন-ক্রিকইনফোতে বলেন, 'এটা একেবারে ধাক্কার মতো। বিশ্বকাপে আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং আমরা হারতে ঘৃণা করি… খেলোয়াড়রা এটা মেনে নিতে পারছে না, জনতাও তাদের ওপর চাপ দেবে… তারা ভীষণ হতাশ।'
এমআই/এসএন