© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ছেলেমেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তবু কোন কথা ভেবে আতঙ্কিত দিয়া?

শেয়ার করুন:
ছেলেমেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তবু কোন কথা ভেবে আতঙ্কিত দিয়া?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৭ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পরিবেশ নিয়ে তাঁর অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক প্রশ্নেও সোচ্চার থাকেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে এসে আবারও প্রকৃতি, নতুন প্রজন্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানালেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।

হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী জানালেন, সন্তানদের তিনি আলাদা করে পরিবেশরক্ষার পাঠ দেন না। তাঁর বিশ্বাস, শিশুদের শেখানোর চেয়ে তাদের সামনে সঠিক উদাহরণ তুলে ধরা বেশি জরুরি। তাঁর কথায়, সন্তানরা দেখেই শিখে নেয় কোনটা সঠিক, কোনটা নয়।

এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে পাঁচ বছরের ছেলে আভিয়ানের একটি ঘটনার কথা। এক বন্ধুর জন্মদিনের আসরে গিয়েছিল সে। চারদিকে প্লাস্টিকের বেলুনের সাজ। বাঘের আকারের একটি প্লাস্টিকের বেলুন নিতে বলা হলে সে সোজা না করে দেয়। জানিয়ে দেয়, একবার ব্যবহার করা প্লাস্টিক সে নেবে না। সেই মুহূর্তকে নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন দিয়া। তাঁর কথায়, এই সচেতনতা কোনও বই থেকে শেখানো নয়, পরিবেশকে সম্মান করার মানসিকতা থেকেই এসেছে।



শুধু পরিবেশ নয়, নতুন প্রজন্ম নিয়েও তাঁর ভাবনা স্পষ্ট। জেন জি প্রজন্মকে তিনি আবেগপ্রবণ অথচ সচেতন বলে বর্ণনা করেন। তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করলেও একই সঙ্গে তিনি লক্ষ্য করেছেন, অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার তাড়নায় ধৈর্য হারাচ্ছে। সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি পেতে চাওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে সমস্যা ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করেন তিনি।

এবার আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ। দিয়া মনে করেন, দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হলে এই প্রযুক্তি সমাজের কাজে লাগতে পারে। তবে লাগামছাড়া ব্যবহারে বিপদও আছে। তাঁর আশঙ্কা, যদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর মুহূর্তে তৈরি হয়ে যায়, তবে নতুন প্রজন্ম নিজেদের চিন্তাশক্তি ব্যবহার করার আগ্রহ হারাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তা এক প্রজন্মের ভাবনাশক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সন্তানদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দিয়া মির্জা, তবু তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ। প্রকৃতির সুরক্ষা আর মানবিক চিন্তার বিকাশ এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় বার্তা।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন