© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে দেশে ফিরতে পারছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা জিম্বাবুয়ে

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে দেশে ফিরতে পারছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা জিম্বাবুয়ে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৪৬ এএম | ০২ মার্চ, ২০২৬
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত। তার প্রভাবে আকাশসীমা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের ‘এ’ দলের ম্যাচ বাতিল হয়েছে। এবার চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পড়েছে এই সংঘাতের প্রভাব।

পশ্চিম এশিয়ায় আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে ভোগান্তিতে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। গতকাল (রোববার) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা নিজেদের শেষ ম্যাচ খেললেও দেশে ফিরতে পারছে না। কবে ভারত ছাড়তে পারবে আফ্রিকার দল, তাও জানা নেই। আপাতত তারা ভারতেই আছে।

টুর্নামেন্ট আয়োজকরা তাদেরকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। অন্য যে দলগুলোর বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে তারা ইতোমধ্যে দেশে ফিরে গেছে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানতে পেরেছে দুই ভাগে ভাগ হয়ে জিম্বাবুয়ের দেশে ফেরার কথা। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে প্রথম ভাগ এবং পরে বাকিদের ভারত ছাড়ার কথা। তাদের বুকিং ছিল এমিরেটস ফ্লাইটে, দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারেতে অবতরণ কথা। কিন্তু আকাশসীমা বন্ধ থাকায় আপাতত ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দলের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে জিম্বাবুয়ে কোচ জাস্টিন স্যামন্স বললেন, ‘না, আমি তেমন কিছু শুনিনি। খেলা যখন শুরু হলো, তখনো কিছু জানা যায়নি। আমরা কেবল খেলাতেই মনোযোগ ধরে রেখেছিলাম, তাই কিছু জানতে পারিনি।’



গত শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়া পাকিস্তান একটি শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে কলম্বো থেকে লাহোরে ফিরেছে। ওই দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাল্টা হামলা হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাতে এই অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত করছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করতে বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজতর করতে আপদকালীন পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা জানায় আইসিসি। তারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সকল অংশীজনদের ভ্রমণ, লজিস্টিকস এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক আপদকালীন পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে’।

​আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সাথে টুর্নামেন্ট পরিচালনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে আইসিসি স্বীকার করছে যে বিপুল সংখ্যক কর্মী- যার মধ্যে খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিশিয়াল, ব্রডকাস্ট টিম এবং ইভেন্ট স্টাফ রয়েছেন- তারা ইভেন্টে তাদের দায়িত্ব শেষ করে নিজ দেশে ফেরার জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর, বিশেষ করে দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।’
‘আইসিসি ট্রাভেল এবং লজিস্টিকস টিম ইউরোপীয়, দক্ষিণ এশীয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় হাবগুলোর মাধ্যমে সংযোগসহ বিকল্প রুটিং অপশনগুলো শনাক্ত ও নিশ্চিত করতে প্রধান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর (এয়ারলাইনস) সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে রিয়েল-টাইম পরামর্শ প্রদান করবেন। একটি ডেডিকেটেড আইসিসি ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও সক্রিয় করা হয়েছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ পর্যায়ে। ৪ ও ৫ মার্চ সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ ফাইনাল হবে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন