সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে এনসিপি নেতার স্লোগান নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩৩ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সারজিস আলম একের পর এক স্লোগান দিচ্ছেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই হাজারো মানুষ কণ্ঠ মেলাচ্ছেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতের এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকে মনে করছেন, দরগাহের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রাখার জায়গায় রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ায় তা নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে কিছু জনপক্ষ এই ঘটনার সমর্থন করছেন।
এ বিষয়ে এনসিপি সিলেট মহানগরের সদস্যসচিব কিবরিয়া সরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। এটি তারাবিহ নামাজের পরের সময়। সেখানে প্রচুরসংখ্যক জেন-জি (জেনারেশন জেড) জড়ো ছিলেন। তাদের দেখে সারজিস আলমও স্লোগান দেন। কোনো ভাবগাম্ভীর্যতা বিনষ্ট হয়নি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এর সমালোচনা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি জেলা ও মহানগরের আয়োজনে গতকাল বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে তারা দরগাহ মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বের হওয়ার সময় দরগাহে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ মুহূর্তেই স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সারজিস আলম নারীদের ইবাদতখানার ছাদে উঠে স্লোগান দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত হাজারো মানুষও কণ্ঠ মেলান। দেওয়া স্লোগানের মধ্যে ছিল-‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘যুগে যুগে লড়ে যাব, আমরা সবাই হাদি হব’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ ইত্যাদি।
ঘটনার সমালোচনা করেছেন সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী (কিম)। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, সুলতানুল বাঙাল হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের সময় আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে আদব নষ্ট করেনি। নারীদের ইবাদতখানার উপরে উঠে স্লোগান দেওয়াটা সুফি দরগাহের আদবের খেলাফ।
সিলেটের আরও একজন নাগরিক, মাহতাব শাহ ফকির লিখেছেন, কোনটা দোয়ার জায়গা আর কোনটা স্লোগানের মঞ্চ-যারা পার্থক্য বুঝতে পারে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে? সিলেট আধ্যাত্মিকতার রাজধানী। এখানে আবেগ নয়, আদবই প্রথম শর্ত। পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শহরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এমআই/এসএন