জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, রাতেও পেট্রোল পাম্পে গাড়ির জট
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩১ এএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চালকরা আগাম আশঙ্কায় তেল ফুল ট্যাংক করে রাখছেন।
পিছিয়ে নেই প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। জ্বালানি তেল সংকটের শঙ্কায় সবাই গাড়িতে ফুল ট্যাংক তেল নিয়ে রাখছেন। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। দিনশেষে রাতেও তাই ফিলিং স্টেশনে গাড়ির জট দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে বাড়তি চাপের কারণে সন্ধ্যার পরই অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে রেখেছে। এদিন সন্ধ্যায় নিউমার্কেট, নীলক্ষেত এলাকার সবগুলো পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। আর রাতেও পরীবাগ, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় পেট্রোল পাম্পে গাড়ির জট দেখা গেছে।
রাজধানীর পরিবাগের ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে এসেছে আরিফ বিল্লাহ। তিনি বলেন, তেলের সংকট হতে পারে, এজন্য গাড়িতে ফুল ট্যাংকি লোড করে রাখছি যেন তেল না পাওয়া গেলেও গাড়ি চালানো যায়।
রাহিম নামের এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, গাড়ি গ্যাসে চালাই। তারপরও রিজার্ভ তেল নিয়ে রাখছি যেন সংকট হলে বসে থাকতে না হয়।
অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না শেওড়াপাড়ার মেসার্স সোবহান ফিলিং স্টেশন। এই পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘলাইন দেখা যায়। সাধারণত এই পাম্প ফাঁকা থাকে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেল চালকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে মার্চ মাসে দেওয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল প্রায় ১৫-১৭ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের, জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত আছে।
সরকারি তথ্যের হিসাবে এখনই জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার কথা না। তবে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ায় আহ্বান জানিয়েছে।
আইকে/টিকে