© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানে প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করল মানবাধিকার সংস্থা

শেয়ার করুন:
ইরানে প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করল মানবাধিকার সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫৮ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার এক মাসের মাথায় সেখানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান (এইচআরএ) নামক একটি স্বাধীন সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে এই যুদ্ধে অন্তত ১ হাজার ৪৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

এই বিপুল প্রাণহানির মধ্যে অন্তত ২১৭ জন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন জানায়, গত ৯ মার্চ ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন, যেদিন ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৪০০ দফা হামলায় এক দিনেই ২৫২ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান।

লন্ডন-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'এয়ারওয়ারস' জানিয়েছে, বিমান হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। 

এইচআরএ-র তথ্যমতে, নিশ্চিত হওয়া হামলার প্রায় ৩৭ শতাংশই ঘটেছে রাজধানী তেহরানের শহরাঞ্চলে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০টি হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র, ৪৪টি স্কুল এবং ১২৯টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি যাচাই করেছে সংস্থাটি। তবে সরকারি তথ্য বলছে, ১৬ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৫৪৩টি হামলা চালানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

মানবিক এই বিপর্যয়ের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয় জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যে, যেখানে বলা হয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নও তীব্র হয়েছে। 

১৯ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮৩০ জনকে যথেচ্ছভাবে গ্রেফতার করার নথিপত্র হাতে পেয়েছে এইচআরএ। এর পাশাপাশি দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বেসামরিক নাগরিকরা আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইসরাইল, জর্ডান, ইরাকসহ মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার সাথে সাথে বেসামরিক হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন