ই-সিগারেটের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সংশোধন হচ্ছে অধ্যাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৬ পিএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার। তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি নতুন খসড়া তৈরি করছে। সেখানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত পূর্বের কঠোর বিধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুতই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে ই-সিগারেট এখন ‘নিষেধাজ্ঞা’ থেকে ‘নিয়ন্ত্রিত বিপণন’ কাঠামোর আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন-বেন্ডস্টা গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ভেপ স্বীকৃত একটি তামাক ক্ষতি হ্রাসের (টোব্যাকো হার্ম রিডাকশন) পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
সংগঠনটি জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্মোকিং অ্যান্ড টোবাকো : অ্যাপ্লাইং অল আওয়ার হেলথ শীর্ষক নির্দেশিকা (৪ জুলাই ২০২৫) অনুযায়ী ধূমপানকে কোনো জীবনধারাগত পছন্দ নয়, বরং একটি নির্ভরতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়, যার জন্য চিকিৎসা ও সহায়তা প্রয়োজন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস, যুক্তরাজ্য) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ধূমপায়ীদের ধূমপান ছাড়তে সহায়তা প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার।
ওই নির্দেশিকায় স্টপ স্মোকিং এইডস-এর অংশে বিশেষভাবে ই-সিগারেট বা ভেপকে ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সহায়ক মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়। ককরেনের একটি প্রকাশিত পদ্ধতিগত গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (যেমন প্যাচ ও গাম)-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকরভাবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে।
বেন্ডস্টার নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারের এই উদ্যোগ নিষেধাজ্ঞা থেকে নীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণের একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান বলেন, তরুণরা কিন্তু ই সিগারেট খাওয়া বন্ধ করেনি। বরং অবৈধ পথ দিয়ে এসব পন্য বাংলাদেশে আসছে। তাই নির্দিষ্ট আইন ও মনিটরিং থাকলে এ খাত থেকেও সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব আয় করতে পারে।
সুমন জামান জানান, তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিষেধাজ্ঞা নয়। যথাযথ বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, বিজ্ঞাপন সীমাবদ্ধতা এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ রোধ কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। বিপরীতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাজারকে অদৃশ্য করে দেয়, যেখানে কোনো তদারকি থাকে না, ফলে অবৈধ কালোবাজার গড়ে ওঠে এবং পণ্য আরো সহজে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে তরুণদের হাতে পৌঁছে যায়। এই বাস্তবতায়, নিয়ন্ত্রিত কাঠামোই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিক কার্যকর ও টেকসই পথ।
আরআই/এসএন