অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত
১১:০৮ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্বে বড় রদবদল হয়েছে। সোমবার অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।
সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর প্রধান হবেন। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের জায়গায় দায়িত্ব নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জুলাই মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে আমরা প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান পেতে যাচ্ছি।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস কয়েলের নিয়োগকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সুসানের এই অর্জন আজ অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সে কর্মরত নারীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভবিষ্যতে যারা সেখানে কাজ করার কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও এটি বড় অনুপ্রেরণা এটি।
৫৫ বছর বয়সী কয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বেশ কয়েকটি ঊর্ধ্বতন কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্লেস বলেন, ‘তিনিই হবেন সেনাবাহিনীর যেকোনো সার্ভিস শাখার নেতৃত্বদানকারী প্রথম নারী।’
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (এডিএফ) নারীদের সংখ্যা প্রায় ২১ শতাংশ এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের পদগুলোতে তাদের হার ১৮.৫ শতাংশ। এডিএফ ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের সার্বিক অংশগ্রহণের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
কয়েলের এই নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের র্যাংকে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। দেশটি ধারাবাহিকভাবে যৌন হয়রানি এবং বৈষম্যের অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছে। গত অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের (এডিএফ) বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংস্থাটি পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার নারী কর্মকর্তাকে যৌন নিপীড়ন, হয়রানি ও বৈষম্য থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে সোমবার সরকার নৌবাহিনীর বর্তমান প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে নতুন এডিএফ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। নৌবাহিনীর বর্তমান উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি এই শাখার প্রধান হিসেবে হ্যামন্ডের স্থলাভিষিক্ত হবেন।