যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ একের পর এক বিজ্ঞানী, অবশেষে মুখ খুললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০০ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একের পর এক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনও যোগসূত্র আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে অবশেষে সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রহস্যময় এসব ঘটনায় শিগগিরই ‘স্পষ্ট উত্তর’ পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মার্কিন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই একটি ‘ভালো উত্তর’ পাওয়া যাবে বলে আশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত আটজন থেকে দশজন ব্যক্তি মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এসব বিজ্ঞানীদের বেশিরভাগই মহাকাশ ও পারমাণবিক বিজ্ঞান গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা অস্পষ্ট বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ঘটেছে।
এই ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি কাকতালীয়- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি এটি কাকতালীয়, তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব। আমি এই বিষয়েই একটি বৈঠক থেকে এলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি বেশ গুরুতর বিষয়... আশা করি এটি কেবলই কাকতালীয় ঘটনা, আপনি যেভাবেই বলুন না কেন। তবে এদের মধ্যে কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টি খতিয়ে দেখব’। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানীদের বিষয়ে আমরা সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি ভালো উত্তর পেয়ে যাব।’
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক প্রতিরোধ ও মহাকাশ আধিপত্যসংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত অন্তত ৯ জন, সম্ভবত ১০ জন বিজ্ঞানী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন। আর এটি দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক সাংবাদিক প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে এসব রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে গত বুধবার হোয়াইট হাউস অবশেষে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত কি না এবং তদন্ত করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে লেভিট বলেন, ‘আমি এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি। তবে আমি অবশ্যই তা করব এবং আপনাকে জানাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে এটি অবশ্যই এমন কিছু, যা সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’
এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তথা লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন, উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ফলে এসব উচ্চ-নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি গুপ্তচরবৃত্তি, নিরাপত্তা ভঙ্গ বা অন্য কোনও হুমকির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
প্রতিবেদনগুলো বলছে, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী ঘর থেকে হেঁটে বের হয়েছিলেন এবং তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও চাবির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতেই রেখে গেছেন। শুধু নিখোঁজই নয়, কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী আকস্মিকভাবে বা সহিংস পরিস্থিতিতে মারা গেছেন বলেও জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাদের কাছে গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে, তারা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তি বা টার্গেট করে অপহরণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এমআই/এসএন