শৈশবের কোন ক্ষত প্রকাশ্যে আনলেন হলিউড অভিনেত্রী চার্লিজ থেরন?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৪ পিএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
হলিউড অভিনেত্রী চার্লিজ থেরন সম্প্রতি নিজের জীবনের এক অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি প্রকাশ্যে আনলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এমন এক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন, যা তার জীবন একমুহূর্তে বদলে দিয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী।
চার্লিজ থেরন বলেন, তার শৈশবের এক ভয়ঙ্কর রাত। সেই সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতেন। এক রাতে তার বাবা মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে হিংস্র আচরণ শুরু করেন। সেই সঙ্গে মারধরও করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

অভিনেত্রী বলেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, তার বাবা বাড়ির দরজায় গুলি চালাতে শুরু করেন। আমি এবং আমার মা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে ছিলাম। বাবা বাইরে থেকে লাগাতার গুলি চালাচ্ছিল। আমি তো ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলাম। মাকে জড়িয়ে ধরে বসেছিলাম।
চার্লিজ থেরন আরও বলেন, মা আর আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না। চেনাপরিচিত অনেককেই ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সাহায্য পাননি। এ অবস্থায় নিজের ও মেয়ের জীবন বাঁচাতে তার মা বাধ্য হন পাল্টা পদক্ষেপ নিতে। শেষমেশ নিজেদের বাঁচাতে তিনি বন্দুক নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান, নিজে স্বামীর বুকে গুলি করেন।
সেই ঘটনার দুঃস্বপ্নের রাত এখনো মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে চার্লিজ থেরনের। পরে আদালতে ওঠে ঘটনাটি। তবে সব দিক বিচার করে আদালত থেরনের মায়ের পক্ষেই রায় দেন। আদালত জানিয়েছিলেন, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি করতে বাধ্য হয়েছিলেন তার মা।
এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন চার্লিজ থেরন। অভিনেত্রী বলেন, একসময় তিনি এ ঘটনা কাউকে বলতে চাইতেন না। কারণ এ অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা তার পক্ষে সহজ ছিল না। তবে এখন তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনের এই অধ্যায় প্রকাশ্যে আনা জরুরি।
চার্লিজ থেরন বলেন, এতে অন্যরা সাহস পেতে পারেন। বুঝতে পারেন যে তারা একা নন। এর পাশাপাশি তিনি বারবার জোর দিয়েছেন গার্হস্থ্য হিংসার প্রতিবাদে। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়েই জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
কঠিন অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও চার্লিজ থেরন নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি। বরং আরও শক্তভাবে দাঁড়াতে শিখেছেন। আজও তিনি মনে করেন, এমন ঘটনা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা জরুরি। কারণ তাতে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার সাহস পাবেন।
উল্লেখ্য. চার্লিজ থেরন প্রখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান ও মার্কিন অভিনেত্রী এবং প্রযোজক, যিনি 'মনস্টার' (২০০৩) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) জিতেছেন। তিনি 'ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড', 'অ্যাটমিক ব্লন্ড' এবং 'দ্য ওল্ড গার্ড'-এর মতো অ্যাকশনধর্মী ও নাট্য চলচ্চিত্রে বহুমুখী ভূমিকার জন্য পরিচিত।
পিআর/টিকে