শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩০ পিএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে চুক্তি নবায়ন করেছেন গায়ক ও গীতিকার তাহসান খান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে চুক্তি নবায়ন করেছেন তাহসান। ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তাহসান বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় ও নিরাপত্তার খোঁজে আসার পর নয় বছর পার হয়েছে। একটি টেকসই সমাধান না আসা পর্যন্ত তাদের এই দুর্দশার প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি যারা অকল্পনীয় ক্ষতি ও কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। আমি তাদের গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রথম শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তাহসান ২০২১ সালে প্রথম নিযুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি ইউএনএইচসিআর-এর হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততার কাজে সহায়তা করে আসছেন। তিনি শরণার্থীদের দুর্দশা, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং অধিকার রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে একজন নিবেদিত কণ্ঠস্বর। তার সম্পৃক্ততা এমন এক সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন, যা এই সময়ে আমাদের সবার প্রয়োজন। তার নিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পেরে আমরা গর্বিত এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা ও আশার প্রসারে তার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি। দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে উদারভাবে আশ্রয় দেওয়া এই দেশে এমন একটি কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক বছরে তাহসান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে ইউএনএইচসিআরের কাজে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেছেন, শরণার্থী সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মতো বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
২০২৫ সালে তাহসান ক্যাম্পের একাংশে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো একটি অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেন। হাজার হাজার মানুষের জীবনে এই ধরনের আগুন কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। তিনি এই অগ্নিকাণ্ডকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চলমান কষ্টের একটি মর্মান্তিক চিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিদর্শনকালে তাহসান বলেন, আমার সঙ্গে দেখা হওয়া শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিরাপদে তাদের দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন। যতদিন তা সম্ভব না হচ্ছে, ততদিন আমাদের অবশ্যই তাদের পাশে থেকে সহায়তা, সুরক্ষা এবং জীবনরক্ষাকারী সেবা প্রদান করতে হবে, তাদের অদম্য মনোবলকে সমর্থন করতে হবে এবং আশার আলো জিইয়ে রাখতে হবে।
তাহসান আরও বলেন, শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআরের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে, তাদের কাজের সঙ্গে জড়িত বড়ো ঝুঁকিগুলোর কথা বিবেচনা করে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগ কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাস করছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প। অনেক রোহিঙ্গারা প্রায় নয় বছর ধরে এসব ক্যাম্পে বসবাস করছেন, যেখানে তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুযোগের প্রবেশাধিকার সীমিত।
ইউএনএইচসিআর ৩৬ জন শুভেচ্ছা দূতের একজন হিসেবে তাহসান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জনসমর্থন গড়ে তোলা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার তুলে ধরার মাধ্যমে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যান।
তাহসানের নিয়োগ নবায়ন তার প্রতি সংস্থাটির আস্থা এবং শরণার্থীদের প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন যাতে কেউ শরণার্থীদের ভুলে না যায়।
কেএন/এসএন