© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পার হলো ৩৪ ইরানি ট্যাঙ্কার

শেয়ার করুন:
মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পার হলো ৩৪ ইরানি ট্যাঙ্কার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫৩ এএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ ও নজরদারি এড়িয়ে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৪টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ অমান্য করে বেরিয়ে যাওয়া এই জাহাজগুলোর মাধ্যমে ইরান প্রায় ৯০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে এই অবরোধ আরোপ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী এখন সম্পূর্ণ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে এবং এই কৌশলটি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যে ৩৪টি জাহাজ এই অবরোধের চোখ ফাঁকি দিয়েছে, তার মধ্যে ১৯টি ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে বেরিয়ে গেছে এবং বাকি ১৫টি আরব সাগর থেকে ইরানের অভিমুখে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে ডোরেনা নামক একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার নিজের ট্রান্সপন্ডার বা অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ করে মার্কিন নৌবাহিনীর রাডার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে সমুদ্রের মাঝখানে অন্য একটি জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করার প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল কিছুটা সস্তায় বিক্রি হলেও বর্তমান বাজার দরে এই পরিমাণ তেলের মূল্য অন্তত ৯১০ মিলিয়ন বা ৯১ কোটি ডলার।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা ২৮টি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। তবে বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি কন্টেইনার জাহাজ আটক এবং একটি অনুমোদিত ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালাতে পেরেছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে ইরান পাল্টা ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে এবং সেখানে একটি ‘নতুন শৃঙ্খলা’ কায়েম করা হয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে এই পথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের জন্য ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের অনুমতি প্রয়োজন হবে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আর অন্যদিকে ইরানের কড়াকড়িতে বিশ্বজুড়ে জাহাজ মালিকরা একে দ্বিমুখী অবরোধ হিসেবে অভিহিত করছেন। 

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন