ভাত ছাড়া চলেই না: লাভলি মৈত্র
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৫৫ পিএম | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
নির্বাচনী প্রচারের তীব্র ব্যস্ততায় বদলে গেছে অভিনেত্রী ও প্রার্থী লাভলি মৈত্র-র দৈনন্দিন জীবনযাপন। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র জুড়ে সারাদিন মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রচার ও এলাকার খোঁজখবর নেওয়ার মধ্যেই এখন তাঁর দিন কেটে যাচ্ছে। এই ব্যস্ততার প্রভাব পড়েছে তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সাজপোশাক ও শরীরচর্চার অভ্যাসেও।
নির্বাচনের আগে নিয়মিত অভিনয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতেন তিনি। তবে এখন সেই ছন্দে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগে নিয়ম করে শরীরচর্চা করলেও প্রচারের চাপে তা আর হয়ে উঠছে না। পাশাপাশি চা ও কফি প্রায় পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন তিনি। একসময় দিনের শুরুতেই কালো কফি ছিল তার নিত্যসঙ্গী, কিন্তু গরম আবহাওয়া ও মাইগ্রেনের সমস্যার কথা ভেবে এখন সেই অভ্যাসে ইতি টেনেছেন।

খাবারের ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। বাইরে খাবারের বদলে এখন ঘরের তৈরি হালকা খাবারই ভরসা তার। সকালে স্নান সেরে রুটি-তরকারি খেয়ে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। গরমে শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত ডাবের জল পান করছেন। তবে একটি অভ্যাসে কোনো বদল নেই ভাত ছাড়া তার দিন চলে না। দুপুর ও রাতে ভাত খেতেই পছন্দ করেন তিনি, যা তার কথায় একজন খাঁটি বাঙালির পরিচয় বহন করে।
রূপচর্চার ক্ষেত্রেও সরলতা বজায় রেখেছেন লাভলি। আলাদা করে সাজগোজের প্রতি খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও অভিনয়ের প্রয়োজনে তা করতে হয়। কিন্তু এখন প্রচারের সময় রোদে ঘোরাঘুরির কারণে ত্বক সুরক্ষাই প্রধান চিন্তা। তাই মেকআপ বলতে মূলত সানস্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন তিনি। রাতে নিয়ম মেনে মুখ পরিষ্কার করে টোনার ও ক্রিম ব্যবহার করার অভ্যাস বজায় রেখেছেন আগের মতোই।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আরামই তার প্রধান ভরসা। সারা বছর যেমন সুতির পোশাক পরতে স্বচ্ছন্দ, প্রচারের সময়ও সেই অভ্যাসেই অটল রয়েছেন। সুতির শাড়ি বা চুড়িদার পরেই তিনি বের হচ্ছেন জনসংযোগে, যাতে তীব্র গরমেও কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
নির্বাচনের কারণে দীর্ঘদিন সোনারপুরেই থাকতে হচ্ছে তাকে। ফলে পরিবারের সঙ্গে দূরত্বও বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ভিডিও কলের মাধ্যমে। প্রচারের ব্যস্ততার ফাঁকে এভাবেই সামলে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত জীবন।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দায়িত্ব ও প্রচারের চাপে একেবারেই বদলে গেছে লাভলি মৈত্রের দৈনন্দিন ছন্দ। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যের দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
পিআর/টিকে