ভাঙনের মুখে কেজরিওয়ালের দল, দিল্লির পর পাঞ্জাবেও ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৯ এএম | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতে ভাঙনের মুখে একসময়কার জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টি (আপ)। আলোচিত মুখ রাঘব চাড্ডাসহ রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের বিজেপিতে যোগদানের পর অস্থিরতা বাড়ছে দলটিতে। পার্লামেন্টে রাজ্য প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনেও ভরাডুবির শঙ্কায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। এমন অবস্থায় দলটির আরও ২৮ বিধায়কের দলত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে।
মূলত, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আর রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১২ সালে ভারতে অভিষেক হয় আম আদমি পার্টির। একবছর পরই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে পায় অভাবনীয় সাফল্য। প্রথমবারই ৭০টির মধ্যে ২৮ আসনে জয়লাভ করে দলটি; কংগ্রেসের সাথে মিলে গঠন করে সরকার। পরে তা ভেঙে গেলেও ২০১৫ সালে একাই ৭০ আসনের ৬৭টিতে বিজয়কেতন ওড়ায় কেজরিওয়ালের পার্টি। ২০২০ সালেও ৬২ আসনে জয় পেয়ে ভারতের রাজনীতিতে নমুন সমীকরণ নিয়ে আসে আম আদমির নেতারা।
অবশ্য সেই জনপ্রিয় দলটিকে এখন যেতে হচ্ছে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে। পার্টির পরিচিত মুখ রাঘব চাড্ডা যখন যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে; সেই সুরে সুর মিলিয়েছে দলটির রাজ্যসভার আরও ছয় সদস্য। সব মিলিয়ে রাজ্যসভার সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশই এখন দলবদলের হাওয়ায় গা ভাসিয়েছেন। এমন অবস্থায় সাংগঠনিকভাবে অনেকটা শূন্যতায় ভুগছে দলটি।
সংখ্যার অঙ্কে বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির এমপি ১০ জন। যা কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র তিনে। এরমধ্যে পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত সাংসদের সংখ্যাই বেশি। তাই আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়াও রাজ্যের সাংগঠনিক শক্তি ও রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দুই-তিন জনের বেশি সাংসদ অবশিষ্ট থাকবেন না। ফলে পাঞ্জাবে দলটির আরও কিছু শক্তিক্ষয় হতে পারে।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক দোরাইস্বামী রাজা বলেন, 'আম আদমি পার্টির গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত কেন এমন লোকদের নির্বাচিত করা হয়েছিল। কীভাবেই বা তারা চলে যাচ্ছে। এটি একটি গুরুতর বিষয়, এর প্রভাব পাঞ্জাবেও পড়বে। কারণ পাঞ্জাবেই এএপি'র সরকার রয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে গণতন্ত্রের কী হবে?'
দেশটির সংস্কারকর্মী আন্না হাজারের দৃষ্টিতে এই দলবদল ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির বিপরীতে গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য নেতিবাচক। তিনি বলেন, 'এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেয়া উচিত নয়। স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা ঠিক কাজ নয়। আমাদের সংবিধানে এর উল্লেখ নেই। আমাদের সংবিধানই সর্বোচ্চ। আমাদের দেশ সংবিধানের ভিত্তিতেই চলে।'
এমন পরিস্থিতির মাঝেই নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে আম আদমি পার্টির অন্তঃকোন্দল। হরিয়ানায় সাবেক রাজ্য সভাপতি নবীন জয়হিন্দ দাবি করেছেন, একযোগে দলটির ২৮ বিধায়ক আম আদমি পার্টি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনা সত্যি হলে বড় ধরনের বিপাকে পড়তে পারে দলটি।
এবি/টিএ