সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা, দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ পাউবোর
ছবি: সংগৃহীত
১০:২১ পিএম | ০১ মে, ২০২৬
উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে দেখার হাওর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৭ দিনের দিনের যে পূর্বাভাস সে অনুযায়ী আগামী ৩ দিন অর্থাৎ ১ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত সুবামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের উজানে মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী ৪ দিনে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এই বৃষ্টিপাত হলে সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। হাওরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সুনামগঞ্জ এই মুহূর্তে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় আছে। ইতোমধ্যে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের বাঁধগুলো নিয়েও ঝুঁকিতে আছি। হাওরের বাঁধগুলো ডুবন্ত বাঁধ। এগুলো হয়তো বিপৎসীমা অতিক্রম না করার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার তৈরি হতে পারে। ১৭-১৮ কিলোমিটার বাঁধের পানি আটকানোর ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। যে কোনো সময় বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হতে পারে।
তবে এমন অবস্থায় মাঠপর্যায়ে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রপাতির অভাবে সময়মতো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন তারা। তাহিরপুর উপজেলার কৃষক মুক্তার মিয়া বলেন, বদলপুর হাওর,বলদার হাওর,গোলাঘাট হাওরে আমার ৭-১০ বিঘা জমিতে ফসল ছিল। দুই দিন কোনো শ্রমিক পাইনি। আজকে ১৫০০ টাকা মজুরি দিয়ে কিছু শ্রমিক লাগিয়েছি। ৬টা ছোট নৌকা দিয়ে ধান জমি থেকে ডাঙায় তুলছি।
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রনচি গ্রামের কৃষাণী নুপথা বেগম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে খলায় থাকা ধানে ইতোমধ্যে বীজ বের হতে শুরু করছে। আরও যদি বৃষ্টি হয় তাহলে এবারের সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
কৃষকদের শঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সুনামগঞ্জের ১০ লাখ কৃষক।
এবি/টিএ