৫ আগস্ট ছাত্রজনতা দেশকে আবার স্বাধীন করেছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৫ পিএম | ০২ মে, ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতা এই দেশকে আবার স্বাধীন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই বাংলাদেশ একসময় পরাধীন ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে। তারপরেও বিভিন্ন সমস্যা হয়েছে দেশে। আমাদের দেশের মানুষেরা, বিশেষ করে তোমাদের মনে আছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের ছাত্রজনতা এই দেশের মানুষকে আবার স্বাধীন করেছে। আবার আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছি।"
তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে আরও বলেন, "তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের এম্বেসেডর হবে। তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে।"
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ধারণা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সাড়ে চার বছর আগে আমিনুল (ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক) লন্ডনে গেলে তার সাথে রেস্টুরেন্টে বসে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ব্যাপারে প্রথম আলাপ হয়। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিই ক্ষমতায় এলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করব।"
সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "সরকার থেকে আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে ছোট বন্ধুদের পাশে আছি। তা হোক লেখাপড়া বা খেলাধুলার। তোমরা যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড়, গায়ক, মিউজিশিয়ান—যে যা হতে চাও, সরকার তোমাদের সহযোগিতা করবে। যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।"
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বক্তৃতা পর্ব শেষে অনলাইনে সারাদেশে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। বিকেলে পৌনে ৪টায় জাতীয় সংগীতের ইনস্ট্রুমেন্টাল সুর বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রীসহ গ্যালারিতে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই ৮টি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে: ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন অনুষ্ঠিত হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস-লিগ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে'র মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হবে।
ইউটি/টিএ