বিয়ের ১০ বছর পর ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪১ এএম | ০৮ মে, ২০২৬
নড়াইল সদরে সালমা বেগম ও মহসিন মোল্যা দম্পতির বিয়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর তাদের সংসারে একসঙ্গে ৭ শিশুর জন্ম হয়। তবে দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি, সাত নবজাতকের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদের মধ্যে ৪টি পুত্র সন্তান ও ৩টি কন্যা সন্তান ছিল।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে সদরের মাইজপাড়া ইউপি সদস্য আক্তার মোল্যা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই দম্পতি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের বাসিন্দা। মহসিন মোল্যা পেশায় অটোরিকশাচালক।
যশোর মেডিকেল কলেজ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদরের কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা ১০ বছর আগে সালমা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তিনি পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় প্রায় ৭ বছর প্রবাস জীবনে ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশেই অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
পাঁচ বছর আগে একবার সালমা বেগম গর্ভবতী হয়েছিলেন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাতের কারণে তাদের স্বপ্ন নষ্ট হয়। দীর্ঘ বছর পর পুনরায় চলতি বছরে তিনি আবার গর্ভধারণ করেন।
আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে সালমার গর্ভে ছয়জন সন্তানের রিপোর্ট এলেও বাস্তবে একে একে সাতটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে দুটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়। পরদিন বুধবার (৬ মে) রাতে একে একে পাঁচটি সন্তান প্রসব হয়। ভূমিষ্ট হওয়ার পর জীবিত থাকলেও পরে তারা সবাই মারা যায়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যায়ক্রমে নবজাতক সাতটি সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নবজাতকদের দাদা লতিফ মোল্যা ও দাদি মঞ্জুরা খাতুন জানান, গত সোমবার রাতে তার ছেলে বউ সালমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে বাড়ি থেকে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্তানগুলোর জন্ম হয়।
দাদি মঞ্জুরা বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর ঘর আলো করে আসা নাতি-নাতনিদের মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুণছিলাম সবাই। কিন্তু, সাতটি সন্তানের জন্ম হলেও তাদের বাঁচানো গেলো না। এ কষ্ট রাখব কোথায়!!
মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আক্তার মোল্যা জানান, মহসিনের সাতটি সন্তান জন্মের খবরে আমরা সবাই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কাউকে বাঁচানো যায়নি, খবরটা শুনে আমরা সবাই ব্যথিত। তাদেরকে দাফন করা হয়েছে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার সন্তানগুলো অপরিপক্ক অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সালমার পানি ভেঙ্গে যায়। পাঁচ মাসে ২০০ গ্রাম করে ওজন হয়েছে। সবার হার্টবিট ছিল। তবে, শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সালমা বেগম সুস্থ আছেন।
টিজে/টিএ