বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছে জনপ্রিয় পানিনি স্টিকার অ্যালবাম
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৮ পিএম | ০৮ মে, ২০২৬
ফুটবল মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে অনেক ছোট ছোট আবেগ। আর সেই আবেগের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে পানিনি স্টিকার অ্যালবাম। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ৬০ বছরের পথচলা ২০৩০ সালে থমকে যাবে।
ফিফা বিশ্বকাপের জনপ্রিয় স্টিকার অ্যালবাম আর প্রকাশ করবে না ইতালির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পানিনি গ্রুপ। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি কেবল একটি খবর নয়, বরং একটি যুগের অবসান- যা প্রমাণ করে ফুটবল তার চিরচেনা ছন্দ ও সার্থকতা হারাচ্ছে।
১৯৭০ সাল থেকে কয়েক প্রজন্মের ফুটবল সমর্থকদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই ছিল পানিনি স্টিকার জমানোর নেশা। শুরুর দিকে স্টিকারের পেছনে আঠা লাগিয়ে অ্যালবামে বসাতে হতো, কারণ তখনও 'সেলফ-স্টিক' বা স্টিকার প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়নি। উত্তর কোরিয়া, আইভরি কোস্ট বা প্যারাগুয়ের মতো দেশের খেলোয়াড়দের সাথে সমর্থকদের প্রথম পরিচয় করিয়ে দিত এই ছোট ছোট ছবিগুলোই। এটি কেবল একটি শখ ছিল না, বরং বাবা-চাচাদের সাথে সন্তানদের এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন তৈরি করত।
নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া ছিল। সময়ের সাথে সাথে এই স্টিকারের দাম এবং অ্যালবামে স্টিকারের সংখ্যা- দুটোই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ১৯৭০ সালে একটি অ্যালবাম পূর্ণ করতে লাগত মাত্র ২৫০টি স্টিকার। বর্তমানে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে প্রয়োজন ৯৮০টি স্টিকার। হিসাব বলছে, বর্তমান বাজারে একটি অ্যালবাম সম্পূর্ণ করতে প্রায় ৬০০ পাউন্ডের প্রয়োজন যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৫ হাজার টাকার বেশি।

এখন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নতুন করে চুক্তি করেছে ফ্যানাটিকস- এর মালিকানাধীন সংগ্রহ যোগ্য ব্র্যান্ড টপস- এর সঙ্গে। ২০৩১ সাল থেকে ফিফার টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন ইভেন্টের স্টিকার এবং ট্রেডিং কার্ড তৈরি করবে তারা।
একই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উয়েফা'র সংগ্রহ যোগ্য সামগ্রীও তৈরি করছে। ২০২৪ সালে তারা সেখানেও পানিনির জায়গা নেয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন এই চুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি ভক্তদের জন্য তাদের প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন এবং অর্থবহ উপায় তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আয়ের উৎস, যা আমরা সবসময়ই ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করি।
তবে ফুটবল ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর হলো- এই বিশ্বকাপ, আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পানিনির স্টিকার অ্যালবাম পাওয়া যাবে।
এসকে/টিকে